বাংলাদেশ ১০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

রোনালদোকে বিশ্রাম না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় মার্তিনেজ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে টানা তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের। তার মতে, রোনালদোর পরিস্থিতিকে লিওনেল মেসি বা আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করাই ভুল এবং ‘শিশুসুলভ’।

শনিবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা ম্যাচেও পুরো সময় মাঠে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ফলে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ মিলিয়ে পুরো ২৭০ মিনিটই খেলেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।

তবে ওই ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি রোনালদো। ড্র করায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে পর্তুগাল। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে বিশ্রাম না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মার্তিনেজ বলেন, অন্য দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো মানে নেই।

তার ভাষায়, ‘মেসি বা হালান্ড কী করেছে, সেটা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিই না। এভাবে তুলনা করা শিশুসুলভ।’

পর্তুগাল কোচের মতে, রোনালদোর সবচেয়ে বড় শক্তি তার অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং মাঠে সঠিক অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা।

তিনি বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো সব সময় জানে কখন কোথায় থাকতে হবে। মানসিকভাবে শক্ত থাকা, নিজের অবস্থান ধরে রাখা এবং আক্রমণে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করাই তার অন্যতম বড় গুণ।’

রোনালদোর ফিটনেস নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য ৯০ মিনিট খেলা কোনো সমস্যা নয়। অবশ্য প্রয়োজন হলে পরের ম্যাচে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেটা শুধু তার জন্য নয়, দলের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।’

তিনি জানান, পুরো স্কোয়াডের ওপর সমানভাবে কাজের চাপ ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে পর্তুগাল।

মার্তিনেজ বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা ২১ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছি। অনুশীলন ও ম্যাচ থেকে পাওয়া শারীরিক তথ্য বিশ্লেষণ করেই একাদশ ও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কলম্বিয়ার বিপক্ষে জোয়াও নেভেস ও রুবেন নেভেসকে ৪৫ মিনিট করে খেলানো হয়েছে। একইভাবে দিয়োগো দালোত ও জোয়াও কান্সেলোর সময়ও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রতিটি পজিশনের শারীরিক চাহিদা এক নয় এবং কিছু খেলোয়াড় এখনো পুরোপুরি ফিট নন।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায় শেষ ষোলোর পথে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন পর্তুগাল কোচ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে ওঠা, সেটি অর্জন করেছি। এখন নিজেদের আরও উন্নত করা এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নেওয়াই লক্ষ্য।’

মার্তিনেজের বিশ্বাস, গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই পর্তুগালকে আসল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছে।

তার ভাষায়, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচ খেলতে চাই। এখন থেকে টুর্নামেন্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রুপ পর্ব আমাদের সেরা ছন্দে ফিরতে সাহায্য করেছে। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ, আর আমরা তার জন্য প্রস্তুত হতে চাই।’

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
রোনালদোকে বিশ্রাম না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় মার্তিনেজ
জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদোকে বিশ্রাম না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় মার্তিনেজ

প্রকাশিত: ০২:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে টানা তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের। তার মতে, রোনালদোর পরিস্থিতিকে লিওনেল মেসি বা আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করাই ভুল এবং ‘শিশুসুলভ’।

শনিবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা ম্যাচেও পুরো সময় মাঠে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ফলে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ মিলিয়ে পুরো ২৭০ মিনিটই খেলেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।

তবে ওই ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি রোনালদো। ড্র করায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে পর্তুগাল। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে বিশ্রাম না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মার্তিনেজ বলেন, অন্য দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো মানে নেই।

তার ভাষায়, ‘মেসি বা হালান্ড কী করেছে, সেটা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিই না। এভাবে তুলনা করা শিশুসুলভ।’

পর্তুগাল কোচের মতে, রোনালদোর সবচেয়ে বড় শক্তি তার অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং মাঠে সঠিক অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা।

তিনি বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো সব সময় জানে কখন কোথায় থাকতে হবে। মানসিকভাবে শক্ত থাকা, নিজের অবস্থান ধরে রাখা এবং আক্রমণে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করাই তার অন্যতম বড় গুণ।’

রোনালদোর ফিটনেস নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য ৯০ মিনিট খেলা কোনো সমস্যা নয়। অবশ্য প্রয়োজন হলে পরের ম্যাচে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেটা শুধু তার জন্য নয়, দলের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।’

তিনি জানান, পুরো স্কোয়াডের ওপর সমানভাবে কাজের চাপ ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে পর্তুগাল।

মার্তিনেজ বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা ২১ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছি। অনুশীলন ও ম্যাচ থেকে পাওয়া শারীরিক তথ্য বিশ্লেষণ করেই একাদশ ও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কলম্বিয়ার বিপক্ষে জোয়াও নেভেস ও রুবেন নেভেসকে ৪৫ মিনিট করে খেলানো হয়েছে। একইভাবে দিয়োগো দালোত ও জোয়াও কান্সেলোর সময়ও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রতিটি পজিশনের শারীরিক চাহিদা এক নয় এবং কিছু খেলোয়াড় এখনো পুরোপুরি ফিট নন।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায় শেষ ষোলোর পথে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন পর্তুগাল কোচ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে ওঠা, সেটি অর্জন করেছি। এখন নিজেদের আরও উন্নত করা এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নেওয়াই লক্ষ্য।’

মার্তিনেজের বিশ্বাস, গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই পর্তুগালকে আসল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছে।

তার ভাষায়, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচ খেলতে চাই। এখন থেকে টুর্নামেন্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রুপ পর্ব আমাদের সেরা ছন্দে ফিরতে সাহায্য করেছে। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ, আর আমরা তার জন্য প্রস্তুত হতে চাই।’

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
রোনালদোকে বিশ্রাম না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় মার্তিনেজ