বাংলাদেশ ০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সবর মানে শুধু অপেক্ষা নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিরন্তর চেষ্টা

সবর মানেই হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়; বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা, দোয়া, তাওয়াক্কুল এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও অবিচল থাকার নামই প্রকৃত সবর।

ইসলামী শিক্ষায় ধৈর্যের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলেমরা বলেন, সবর কোনো নিষ্ক্রিয় মানসিকতা নয়; এটি একজন মুমিনের কর্মমুখী ও সংগ্রামী জীবনের অন্যতম ভিত্তি।

ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগে প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ গ্রহণ করতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিচালিত করেছেন। তাই চেষ্টা না করে শুধু ধৈর্যের কথা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের ঘটনাও এ শিক্ষার উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেও নিরাপদে মদিনায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে হাদিসে এসেছে, একজন সাহাবিকে রাসুল (সা.) উপদেশ দিয়েছিলেন—‘আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৭)

আলেমরা বলেন, সবরের সঙ্গে দোয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিপদ-আপদ ও প্রতিকূল সময়ে দোয়া মানুষকে মানসিক শক্তি জোগায় এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৫৩)

তাদের মতে, ধৈর্য কখনো কর্মবিমুখতার নাম নয়। বরং বাধা-বিপত্তির মধ্যেও সৎকাজ ও দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকাই প্রকৃত সবর। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষের জন্য তাই রয়েছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সুরা আন-নাজম: ৩৯)

ধৈর্যের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে একজন কৃষকের কথা উল্লেখ করা হয়। কৃষক জমি প্রস্তুত করেন, বীজ বপন করেন, পরিচর্যা করেন এবং এরপর ফলনের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। অর্থাৎ পরিশ্রম ও অপেক্ষার সমন্বয়েই সফলতা আসে। একইভাবে ছাত্রের অধ্যয়ন, ব্যবসায়ীর সততা কিংবা কর্মজীবীর নিষ্ঠা—এসবই ভবিষ্যৎ সাফল্যের বীজ বপনের অংশ।

ইসলামী শিক্ষায় আল্লাহর প্রতি সুধারণা বা ‘হুসনে জান’-কেও সবরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুমিন বিশ্বাস করেন, আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্তের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা আল-ইনশিরাহ: ৫-৬)

এ ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়াকেই তাওয়াক্কুল বলা হয়। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কিছুর সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়। (সুরা ইয়াসিন: ৮২)

কোরআনে ধৈর্যশীলদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধৈর্যশীলদের প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে, কোনো হিসাব ছাড়াই।’ (সুরা আজ-জুমার: ১০)

আলেমদের মতে, প্রকৃত সবর হলো পরিশ্রম, দোয়া, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসের সমন্বয়। তাই ধৈর্য মানে শুধু নীরবে কষ্ট সহ্য করা নয়; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সবর মানে শুধু অপেক্ষা নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিরন্তর চেষ্টা
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

সবর মানে শুধু অপেক্ষা নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিরন্তর চেষ্টা

প্রকাশিত: ০৪:৪২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সবর মানেই হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়; বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা, দোয়া, তাওয়াক্কুল এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও অবিচল থাকার নামই প্রকৃত সবর।

ইসলামী শিক্ষায় ধৈর্যের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলেমরা বলেন, সবর কোনো নিষ্ক্রিয় মানসিকতা নয়; এটি একজন মুমিনের কর্মমুখী ও সংগ্রামী জীবনের অন্যতম ভিত্তি।

ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগে প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ গ্রহণ করতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিচালিত করেছেন। তাই চেষ্টা না করে শুধু ধৈর্যের কথা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের ঘটনাও এ শিক্ষার উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেও নিরাপদে মদিনায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে হাদিসে এসেছে, একজন সাহাবিকে রাসুল (সা.) উপদেশ দিয়েছিলেন—‘আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৭)

আলেমরা বলেন, সবরের সঙ্গে দোয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিপদ-আপদ ও প্রতিকূল সময়ে দোয়া মানুষকে মানসিক শক্তি জোগায় এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৫৩)

তাদের মতে, ধৈর্য কখনো কর্মবিমুখতার নাম নয়। বরং বাধা-বিপত্তির মধ্যেও সৎকাজ ও দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকাই প্রকৃত সবর। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষের জন্য তাই রয়েছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সুরা আন-নাজম: ৩৯)

ধৈর্যের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে একজন কৃষকের কথা উল্লেখ করা হয়। কৃষক জমি প্রস্তুত করেন, বীজ বপন করেন, পরিচর্যা করেন এবং এরপর ফলনের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। অর্থাৎ পরিশ্রম ও অপেক্ষার সমন্বয়েই সফলতা আসে। একইভাবে ছাত্রের অধ্যয়ন, ব্যবসায়ীর সততা কিংবা কর্মজীবীর নিষ্ঠা—এসবই ভবিষ্যৎ সাফল্যের বীজ বপনের অংশ।

ইসলামী শিক্ষায় আল্লাহর প্রতি সুধারণা বা ‘হুসনে জান’-কেও সবরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুমিন বিশ্বাস করেন, আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্তের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা আল-ইনশিরাহ: ৫-৬)

এ ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়াকেই তাওয়াক্কুল বলা হয়। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কিছুর সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়। (সুরা ইয়াসিন: ৮২)

কোরআনে ধৈর্যশীলদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধৈর্যশীলদের প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে, কোনো হিসাব ছাড়াই।’ (সুরা আজ-জুমার: ১০)

আলেমদের মতে, প্রকৃত সবর হলো পরিশ্রম, দোয়া, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসের সমন্বয়। তাই ধৈর্য মানে শুধু নীরবে কষ্ট সহ্য করা নয়; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সবর মানে শুধু অপেক্ষা নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিরন্তর চেষ্টা