পাবনা শহরের একটি মেস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনা শহরের ডিগ্রিবটলা এলাকার বাদশা মেসে থাকতেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে পুলিশ মেসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য থানার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসের পাশের একটি নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রথমে কক্ষের ভেতরে তার ঝুলন্ত অবস্থান দেখতে পান। পরে তারা মেস মালিককে বিষয়টি জানালে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের এক বন্ধু জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় পুলিশ কক্ষের দরজা খুলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজমনি ইসলাম আগের দিন নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার কোনো পূর্বাভাস তারা পাননি বলে জানান। এছাড়া ঘটনার সময় তার রুমমেট নিজ বাড়িতে থাকায় কক্ষে তিনি একাই ছিলেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে শোক বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, “এই ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত। শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে কথা হয়েছে। পরিবার আসার পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষার্থীর পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করব।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোয়েব খান বলেন, “কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নির্মাণ শ্রমিকরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে বের করেন। এ সময় তারা ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ধারণ করেন।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীর পরিবার আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি 


















