জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও দ্রোহের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যশোরের মণিরামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরই অংশ হিসেবে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সরকার জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবতাবাদী আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন। বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বাপন হালদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, সিনিয়র সহসভাপতি মো. মফিজুর রহমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ, সংশপ্তক শিল্পী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সংগীত শিক্ষক সঞ্জয় মল্লিক, সংগীত সংগঠক ও শিল্পী ফারুক হোসেন, এস. এম. হাফিজুর রহমান, দেবপ্রসাদ দেবু ও রামপ্রসাদ টুটুল।
সভাপতির বক্তব্যে মাহির দায়ান আমিন বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, প্রেম ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত আমাদের মুক্তচিন্তা, ন্যায়বোধ এবং অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। নজরুল বর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাঁর আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, জাতীয় কবি নজরুল কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নন; তিনি সমগ্র বাঙালি জাতির অহংকার। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে যে সাম্য, ন্যায়, প্রতিবাদ ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলচর্চা যত বিস্তৃত হবে, ততই তারা মুক্তবুদ্ধি, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
বক্তারা বলেন, জাতীয় কবির আদর্শকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নজরুলচর্চার কোনো বিকল্প নেই। সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী আয়োজনটি জাতীয় কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মামুনুর রশিদ খান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 






















