বাংলাদেশ ০২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

কুবিতে কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান নিশ্চিতকরণ সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিকল্পনা উন্নয়নের লক্ষ্যে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “অ্যাকাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান উন্নয়ন কেবল একটি কর্মশালার বিষয় নয়; বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্তমান যুগে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু প্রথাগত পাঠদানই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কার্যকর পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক মানোন্নয়ন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি, দুর্বলতা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, “পরিবর্তনশীল উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতার মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে স্থান করে নেবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্সের পথে এগিয়ে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে শক্তিশালী গভর্ন্যান্স ইকোসিস্টেম, কার্যকর গবেষণা ও উদ্ভাবন কাঠামো এবং সমন্বিত সহযোগিতামূলক গবেষণা সংস্কৃতি বিদ্যমান, যা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সহযোগিতামূলক গবেষণা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকাডেমিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ১২ বছর মেয়াদি অ্যাকাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিভাগকে নিজস্ব মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন, এসডব্লিউওটি (SWOT) বিশ্লেষণ, কেপিআই (KPI) নির্ধারণ এবং ধারাবাহিক মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (OBE) বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিল্প-অ্যাকাডেমিয়ার সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
কুবিতে কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
জনপ্রিয় সংবাদ

কুবিতে কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১১:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান নিশ্চিতকরণ সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিকল্পনা উন্নয়নের লক্ষ্যে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “অ্যাকাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান উন্নয়ন কেবল একটি কর্মশালার বিষয় নয়; বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্তমান যুগে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু প্রথাগত পাঠদানই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কার্যকর পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক মানোন্নয়ন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি, দুর্বলতা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, “পরিবর্তনশীল উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতার মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে স্থান করে নেবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্সের পথে এগিয়ে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে শক্তিশালী গভর্ন্যান্স ইকোসিস্টেম, কার্যকর গবেষণা ও উদ্ভাবন কাঠামো এবং সমন্বিত সহযোগিতামূলক গবেষণা সংস্কৃতি বিদ্যমান, যা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সহযোগিতামূলক গবেষণা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকাডেমিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ১২ বছর মেয়াদি অ্যাকাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিভাগকে নিজস্ব মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন, এসডব্লিউওটি (SWOT) বিশ্লেষণ, কেপিআই (KPI) নির্ধারণ এবং ধারাবাহিক মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (OBE) বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিল্প-অ্যাকাডেমিয়ার সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
কুবিতে কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত