মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সাকিবুল (১৬) নামে এক কিশোর অটোরিকশাচালককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর তার মরদেহ উপজেলার গোলাই এলাকার একটি পাটখেতে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বপন (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত সাকিবুল মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের নাথুরা গ্রামের টুলুর ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে জীবিকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন সাকিবুল। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মধ্যরাতে সিংগাইর থানা পুলিশের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, গোলাই এলাকার একটি পাটখেতে সাকিবুলের মরদেহ পড়ে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহের পাশেই সাকিবুলের ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল। এ কারণে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “কিশোর অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের পাশেই তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে স্বপন (২২) নামে এক ফার্নিচার ডিজাইনারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 
















