পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের বিরুদ্ধে পরীক্ষা শুরুর আগেই এক শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র পাঠানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।
বুধবার (২ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অভিযোগে উল্লেখ করা প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেছিলেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের পর সেটি প্রিন্ট করে সিলগালা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন। নির্ধারিত সময়ে সেই সিলগালা খাম খুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। ফলে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার পর প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিন বলেন, “মহাদেব বাবুর বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, “বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, “একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেই যদি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে, তাহলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাদেব রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা এবং বিশেষ কোচিংয়ে অংশগ্রহণে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। সে সময় বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। নতুন করে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি 

















