বাংলাদেশ ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের ফজিলত, হাদিসে যা এসেছে

ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামে কিছু সুন্নত নামাজের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ও পরে আদায় করা ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ নিয়মিত আদায়ের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। বিভিন্ন সহিহ হাদিসে এসব নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিদিনের ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো— ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত, জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের ফরজের পরে দুই রাকাত এবং এশার ফরজের পরে দুই রাকাত।

উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিন ও রাতে নিয়মিত ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৮)

উম্মে হাবীবা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে এই ফজিলতের কথা শোনার পর তিনি আর কখনো এসব সুন্নত নামাজ ত্যাগ করেননি। পরবর্তী বর্ণনাকারীরাও একইভাবে এ আমল নিয়মিত পালন করার কথা উল্লেখ করেছেন।

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ১২ রাকাত সুন্নত নামাজের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, এগুলো হলো— জোহরের আগে চার রাকাত, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪১৫)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকেও একই ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত এই ১২ রাকাত সুন্নত আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪১৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১১৪০)

হাদিসে বিশেষভাবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য সব নফল ইবাদতের তুলনায় ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন এবং কখনো তা ছাড়তেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬৯)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমাদের পেছনে ঘোড়সওয়ার বাহিনী ধাওয়া করলেও ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ছেড়ে দিও না।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৯২৫৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১২৫২)

এ ছাড়া জোহরের আগে চার রাকাত সুন্নতের প্রতিও রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি কখনো জোহরের আগের চার রাকাত এবং ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত ত্যাগ করতেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৮২)

জুমার দিনও সুন্নত নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার নামাজ আদায় করবে, সে যেন জুমার পর চার রাকাত নামাজ পড়ে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৮১)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজগুলো নিয়মিত আদায় করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিনা ওজরে এসব নামাজ ত্যাগ না করে নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করা উচিত।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের ফজিলত, হাদিসে যা এসেছে
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের ফজিলত, হাদিসে যা এসেছে

প্রকাশিত: ০৫:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামে কিছু সুন্নত নামাজের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ও পরে আদায় করা ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ নিয়মিত আদায়ের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। বিভিন্ন সহিহ হাদিসে এসব নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিদিনের ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো— ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত, জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের ফরজের পরে দুই রাকাত এবং এশার ফরজের পরে দুই রাকাত।

উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিন ও রাতে নিয়মিত ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৮)

উম্মে হাবীবা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে এই ফজিলতের কথা শোনার পর তিনি আর কখনো এসব সুন্নত নামাজ ত্যাগ করেননি। পরবর্তী বর্ণনাকারীরাও একইভাবে এ আমল নিয়মিত পালন করার কথা উল্লেখ করেছেন।

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ১২ রাকাত সুন্নত নামাজের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, এগুলো হলো— জোহরের আগে চার রাকাত, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪১৫)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকেও একই ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত এই ১২ রাকাত সুন্নত আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪১৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১১৪০)

হাদিসে বিশেষভাবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য সব নফল ইবাদতের তুলনায় ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন এবং কখনো তা ছাড়তেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬৯)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমাদের পেছনে ঘোড়সওয়ার বাহিনী ধাওয়া করলেও ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ছেড়ে দিও না।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৯২৫৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১২৫২)

এ ছাড়া জোহরের আগে চার রাকাত সুন্নতের প্রতিও রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি কখনো জোহরের আগের চার রাকাত এবং ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত ত্যাগ করতেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৮২)

জুমার দিনও সুন্নত নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার নামাজ আদায় করবে, সে যেন জুমার পর চার রাকাত নামাজ পড়ে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৮১)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজগুলো নিয়মিত আদায় করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিনা ওজরে এসব নামাজ ত্যাগ না করে নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করা উচিত।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের ফজিলত, হাদিসে যা এসেছে