বাংলাদেশ ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

হালাল পর্যটন বিকাশে ইন্দোনেশিয়ার নানামুখী উদ্যোগ

বিশ্বব্যাপী হালাল পর্যটনের ক্রমবর্ধমান বাজারকে লক্ষ্য করে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুসলিমবান্ধব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিদেশে প্রচারণা, সেলস মিশন এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

গত শুক্রবার জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পর্যটন ও সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ ভিনসেনসিয়াস জেমাদু বলেন, আন্তর্জাতিক বিডিং কার্যক্রম, সেলস মিশন এবং বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমবান্ধব পর্যটন সম্ভাবনা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

তিনি জানান, ২৬ থেকে ২৮ জুন অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক এক্সপো ২০২৬-কে দেশটির মিটিংস, ইনসেনটিভস, কনফারেন্সেস অ্যান্ড এক্সিবিশনস (MICE) খাতের পাশাপাশি হালাল পর্যটনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এবারের প্রদর্শনীতে ১৮টি পর্যটন সংগঠন, ৮০টি দেশীয় এবং ১৬টি দেশের ৪৬টি আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নিয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রায় ১৮ হাজার দর্শনার্থী প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করবেন এবং এর মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া (প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের বাণিজ্য সম্পন্ন হবে।

প্রদর্শনীতে মুসলিম পর্যটকদের উপযোগী ভ্রমণ গন্তব্য, হালাল সনদপ্রাপ্ত আবাসন ও খাদ্যসেবা, ইসলামিক পর্যটন প্যাকেজ এবং বিভিন্ন পর্যটনসেবা তুলে ধরা হচ্ছে। প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিম সুমাত্রা, লম্বক, বানতেন, পশ্চিম জাভা, পূর্ব জাভা ও দক্ষিণ সুলাওয়েসিকে মুসলিমবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে।

ভিনসেনসিয়াস জেমাদু বলেন, কোনো গন্তব্যকে মুসলিমবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু হালাল খাবারই যথেষ্ট নয়। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হালাল সনদপ্রাপ্ত খাদ্য ও পণ্যের পাশাপাশি নামাজের নির্ধারিত স্থানসহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও ব্যবহারিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।

তার ভাষায়, মুসলিমবান্ধব পর্যটনের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভ্রমণকারীরা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং ধর্মীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা পাবেন।

তিনি আরও জানান, পর্যটনমন্ত্রী উইদিয়ান্তি পুত্রি ওয়ারধানা দেশজুড়ে মুসলিমবান্ধব পর্যটন গন্তব্য সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়।

এই উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন গ্লোবাল মুসলিম ট্রাভেল ইনডেক্স ২০২৬-এ ইন্দোনেশিয়া পঞ্চম স্থান থেকে উঠে দ্বিতীয় অবস্থানে পৌঁছেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই প্রচারণা আন্তর্জাতিক মুসলিম পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে এবং দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ হালাল পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
হালাল পর্যটন বিকাশে ইন্দোনেশিয়ার নানামুখী উদ্যোগ
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

হালাল পর্যটন বিকাশে ইন্দোনেশিয়ার নানামুখী উদ্যোগ

প্রকাশিত: ০৩:০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

বিশ্বব্যাপী হালাল পর্যটনের ক্রমবর্ধমান বাজারকে লক্ষ্য করে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুসলিমবান্ধব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিদেশে প্রচারণা, সেলস মিশন এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

গত শুক্রবার জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পর্যটন ও সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ ভিনসেনসিয়াস জেমাদু বলেন, আন্তর্জাতিক বিডিং কার্যক্রম, সেলস মিশন এবং বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার মুসলিমবান্ধব পর্যটন সম্ভাবনা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

তিনি জানান, ২৬ থেকে ২৮ জুন অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক এক্সপো ২০২৬-কে দেশটির মিটিংস, ইনসেনটিভস, কনফারেন্সেস অ্যান্ড এক্সিবিশনস (MICE) খাতের পাশাপাশি হালাল পর্যটনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এবারের প্রদর্শনীতে ১৮টি পর্যটন সংগঠন, ৮০টি দেশীয় এবং ১৬টি দেশের ৪৬টি আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নিয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রায় ১৮ হাজার দর্শনার্থী প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করবেন এবং এর মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া (প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের বাণিজ্য সম্পন্ন হবে।

প্রদর্শনীতে মুসলিম পর্যটকদের উপযোগী ভ্রমণ গন্তব্য, হালাল সনদপ্রাপ্ত আবাসন ও খাদ্যসেবা, ইসলামিক পর্যটন প্যাকেজ এবং বিভিন্ন পর্যটনসেবা তুলে ধরা হচ্ছে। প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিম সুমাত্রা, লম্বক, বানতেন, পশ্চিম জাভা, পূর্ব জাভা ও দক্ষিণ সুলাওয়েসিকে মুসলিমবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে।

ভিনসেনসিয়াস জেমাদু বলেন, কোনো গন্তব্যকে মুসলিমবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু হালাল খাবারই যথেষ্ট নয়। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হালাল সনদপ্রাপ্ত খাদ্য ও পণ্যের পাশাপাশি নামাজের নির্ধারিত স্থানসহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও ব্যবহারিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।

তার ভাষায়, মুসলিমবান্ধব পর্যটনের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভ্রমণকারীরা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং ধর্মীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা পাবেন।

তিনি আরও জানান, পর্যটনমন্ত্রী উইদিয়ান্তি পুত্রি ওয়ারধানা দেশজুড়ে মুসলিমবান্ধব পর্যটন গন্তব্য সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়।

এই উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন গ্লোবাল মুসলিম ট্রাভেল ইনডেক্স ২০২৬-এ ইন্দোনেশিয়া পঞ্চম স্থান থেকে উঠে দ্বিতীয় অবস্থানে পৌঁছেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই প্রচারণা আন্তর্জাতিক মুসলিম পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে এবং দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ হালাল পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
হালাল পর্যটন বিকাশে ইন্দোনেশিয়ার নানামুখী উদ্যোগ