বিশ্বকাপের মঞ্চে জাপান শুধু ফুটবল দিয়েই নয়, নিজেদের অনন্য সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলাবোধ দিয়েও বারবার বিশ্ববাসীর হৃদয় জয় করে আসছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ২-২ গোলের ড্রয়ের পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না শুধু ম্যাচের ফল, বরং ম্যাচ শেষে জাপানি সমর্থকদের অসাধারণ একটি উদ্যোগ।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আরলিংটনে এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরে জাপান। মাঠে তাদের লড়াকু মানসিকতা প্রশংসা কুড়ালেও খেলা শেষে গ্যালারিতে দেখা যায় আরও অনন্য এক দৃশ্য।
স্টেডিয়ামের অধিকাংশ দর্শক যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখনও জাপানি সমর্থকদের একটি বড় অংশ হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে নিজেদের বসার স্থান পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। তারা গ্যালারিতে পড়ে থাকা পানির বোতল, কাগজ, খাবারের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে ফেলেন।
বিশ্বের বড় বড় ক্রীড়া আসরে ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে ময়লার স্তূপ প্রায় স্বাভাবিক দৃশ্য হলেও জাপানি সমর্থকদের এই দায়িত্বশীল আচরণ আবারও সবার নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে তাদের প্রশংসায় ভাসছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
মাঠের খেলাতেও জাপান দেখিয়েছে দুর্দান্ত প্রত্যয়। গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোলটি করেন মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা। কোকি ওগাওয়ার হেড থেকে প্রতিহত হওয়া বল দ্রুত জালে জড়িয়ে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন তিনি।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসায় এই ড্র অনেকটা জয়ের সমান অনুভূতি এনে দিয়েছে জাপানের জন্য।
তবে পরিচ্ছন্নতার এই সংস্কৃতি জাপানের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পরও গ্যালারি পরিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল জাপানি সমর্থকরা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও জার্মানি ও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর পর একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।
সাবেক জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু একবার বলেছিলেন, জনসমাগমস্থল আগের চেয়ে আরও পরিষ্কার রেখে আসা জাপানি সংস্কৃতির একটি স্বাভাবিক অংশ। ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হয় তাদের।
এদিন ম্যাচে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন এনএফএলের তারকা কোয়ার্টারব্যাক জেমিস উইনস্টন। ফক্সের মিডিয়া প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি দুই দলের সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান এবং ম্যাচ শেষে জাপানি দর্শকদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও কাছ থেকে দেখেন।
ফুটবলের উত্তেজনা, নাটকীয়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে জাপানি সমর্থকরা আবারও প্রমাণ করলেন, প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ আচরণ শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও প্রকাশ পায়। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে তারা হয়ে ওঠেন শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।
kalprakash.com/SAS