বাংলাদেশ ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

টানা ২৪ ঘণ্টা না খেলে শরীরে কী ঘটে?

ওজন নিয়ন্ত্রণ, বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার আশায় অনেকেই এখন দীর্ঘ সময় উপবাস বা ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার অভ্যাস অনুসরণ করছেন। তবে এমন উপবাস শুরু করার আগে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং কারা এ ধরনের অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন—তা জানা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় খাবার না পেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি উৎপাদনের পদ্ধতি বদলে ফেলে। প্রথমে শরীর রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে যকৃতে জমা থাকা গ্লাইকোজেন ব্যবহার করে। এরপর সেই মজুত শেষ হলে শক্তির উৎস হিসেবে শরীর সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার শুরু করে এবং কিটোন তৈরি হয়। একই সঙ্গে ইনসুলিনের মাত্রা কমে এবং গ্লুকাগনের মতো হরমোনের কার্যকারিতা বেড়ে যায়।

এই পরিবর্তনগুলো অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ঘটে। তবে যারা এ ধরনের উপবাসে অভ্যস্ত নন, তারা ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিরক্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা হালকা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন।

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা না খেলে সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায় না, কারণ যকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী গ্লুকোজ সরবরাহ করতে থাকে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণকারী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী, শিশু এবং দুর্বল বা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন উপবাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২০২৩ সালে ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এ প্রকাশিত Physiology, Fasting শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সঠিকভাবে উপবাস পালন করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমতে পারে এবং রক্তচাপ ও ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় আলঝেইমার ও পারকিনসন রোগের অগ্রগতি ধীর হওয়ারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব বিষয়ে মানুষের ক্ষেত্রে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। উপবাসের শুরুতে অনেকেই মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। এটি রক্তে শর্করার পরিবর্তন, পানিশূন্যতা, ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কারণে হতে পারে। দীর্ঘ সময় উপবাস করলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পেশি ক্ষয় এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ ঘণ্টার উপবাস সবার জন্য উপযোগী নয়। তাই এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা নিরাপদ নয়।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
টানা ২৪ ঘণ্টা না খেলে শরীরে কী ঘটে?
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা ২৪ ঘণ্টা না খেলে শরীরে কী ঘটে?

প্রকাশিত: ০৫:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ওজন নিয়ন্ত্রণ, বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার আশায় অনেকেই এখন দীর্ঘ সময় উপবাস বা ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার অভ্যাস অনুসরণ করছেন। তবে এমন উপবাস শুরু করার আগে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং কারা এ ধরনের অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন—তা জানা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় খাবার না পেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি উৎপাদনের পদ্ধতি বদলে ফেলে। প্রথমে শরীর রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে যকৃতে জমা থাকা গ্লাইকোজেন ব্যবহার করে। এরপর সেই মজুত শেষ হলে শক্তির উৎস হিসেবে শরীর সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার শুরু করে এবং কিটোন তৈরি হয়। একই সঙ্গে ইনসুলিনের মাত্রা কমে এবং গ্লুকাগনের মতো হরমোনের কার্যকারিতা বেড়ে যায়।

এই পরিবর্তনগুলো অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ঘটে। তবে যারা এ ধরনের উপবাসে অভ্যস্ত নন, তারা ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিরক্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা হালকা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন।

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা না খেলে সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায় না, কারণ যকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী গ্লুকোজ সরবরাহ করতে থাকে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণকারী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী, শিশু এবং দুর্বল বা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন উপবাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২০২৩ সালে ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এ প্রকাশিত Physiology, Fasting শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সঠিকভাবে উপবাস পালন করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমতে পারে এবং রক্তচাপ ও ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় আলঝেইমার ও পারকিনসন রোগের অগ্রগতি ধীর হওয়ারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব বিষয়ে মানুষের ক্ষেত্রে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। উপবাসের শুরুতে অনেকেই মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। এটি রক্তে শর্করার পরিবর্তন, পানিশূন্যতা, ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কারণে হতে পারে। দীর্ঘ সময় উপবাস করলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পেশি ক্ষয় এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ ঘণ্টার উপবাস সবার জন্য উপযোগী নয়। তাই এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা নিরাপদ নয়।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
টানা ২৪ ঘণ্টা না খেলে শরীরে কী ঘটে?