ফুটবল বিশ্বকাপ, ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ কিংবা ইউরোপীয় ফুটবলের জমজমাট লড়াই দেখতে অনেক ক্রীড়াপ্রেমীকেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হয়। তবে রাত জাগার পরদিন ক্লান্তি, ঝিমুনি, মনোযোগের ঘাটতি ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে হয় অনেককে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে রাত জাগার নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সকালে অতিরিক্ত ঘুম নয়
রাত জেগেছেন বলে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকা ঠিক নয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বিঘ্নিত হয়। প্রয়োজন হলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এক থেকে দুই ঘণ্টা বেশি ঘুমাতে পারেন, তবে দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকা উচিত নয়।
দুপুরে ছোট্ট ঘুম
দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ শরীর ও মস্তিষ্ককে দ্রুত চাঙা করতে সাহায্য করে। তবে এই ঘুম যেন এক ঘণ্টার বেশি না হয়, কারণ দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে আবার ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বেশি করে পানি পান করুন
ঘুমের ঘাটতি শরীরে পানিশূন্যতার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। তাই দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পাশাপাশি ডাবের পানি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল পানীয়ও শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
পুষ্টিকর খাবার খান
ক্লান্তি কাটাতে অনেকেই অতিরিক্ত মিষ্টি বা ক্যাফেইনযুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর পরিবর্তে ডিম, মাছ, চর্বিহীন মাংস, ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এসব খাবার দীর্ঘ সময় শরীরকে শক্তি জোগায়।
চা-কফি পরিমিত পান করুন
বারবার চা বা কফি পান করলে সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতে অনিদ্রার কারণ হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে চা-কফি পান করাই ভালো।
হালকা ব্যায়াম করুন
কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি, হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ শারীরিক কসরত রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং ক্লান্তি ও ঝিমুনি দূর করতে সাহায্য করে।
পরের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম
এক রাতের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে পরবর্তী রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন। নিয়মিত ঘুমের রুটিনে দ্রুত ফিরে আসাই শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে রাত জেগে খেলা দেখা বড় সমস্যা নয়। তবে এর প্রভাব কমাতে সঠিক বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
কাল প্রকাশ ডেস্ক 






















