বাংলাদেশ ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

দিনের বেলার ঘুমে মিলবে উপকার, কিন্তু কত মিনিট?

ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝে দুপুরে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলার স্বল্প সময়ের এই ‘পাওয়ার ন্যাপ’ শুধু ক্লান্তিই দূর করে না, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়সজনিত ক্ষয় ধীর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল পেতে হলে ঘুমের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলা মাত্র ১০ মিনিটের একটি ন্যাপ সতর্কতা, মনোযোগ এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘুমালে দ্রুত সতেজ অনুভূতি ফিরে আসে, মেজাজ ভালো থাকে এবং ক্লান্তি কমে। ২০২১ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসেও স্বল্প সময়ের ন্যাপকে উৎপাদনশীলতা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমের স্তরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্লিপ ইনারশিয়া’ বলা হয়।

এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম রাতের স্বাভাবিক ঘুমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় ন্যাপ নেওয়ার ফলে রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়া বা অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনের ঘুম ৪০ মিনিটের বেশি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দিনের বেলা ৬০ মিনিটের বেশি সময় ঘুমালে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত দীর্ঘ ন্যাপ নেওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

অন্যদিকে, পরিমিত ন্যাপ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত অল্প সময়ের জন্য ন্যাপ নেন, তাদের মস্তিষ্কের আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত স্বল্প সময়ের ন্যাপ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের জৈবিক বয়স অন্যদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ বছর পর্যন্ত কম হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা দিনের বেলার ঘুমকে আরও কার্যকর করতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পড়া এড়াতে অ্যালার্ম ব্যবহার করা উচিত। আর যদি শুধু ক্লান্তি অনুভূত হয়, কিন্তু রাতে ঘুমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ঘুমানোর পরিবর্তে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা শরীরচর্চা করাও ভালো বিকল্প হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়সীমার মধ্যে নেওয়া একটি ছোট্ট ‘পাওয়ার ন্যাপ’ শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুমের বদলে পরিমিত বিশ্রামই সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
দিনের বেলার ঘুমে মিলবে উপকার, কিন্তু কত মিনিট?
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

দিনের বেলার ঘুমে মিলবে উপকার, কিন্তু কত মিনিট?

প্রকাশিত: ০৪:৫০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝে দুপুরে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলার স্বল্প সময়ের এই ‘পাওয়ার ন্যাপ’ শুধু ক্লান্তিই দূর করে না, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়সজনিত ক্ষয় ধীর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল পেতে হলে ঘুমের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলা মাত্র ১০ মিনিটের একটি ন্যাপ সতর্কতা, মনোযোগ এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘুমালে দ্রুত সতেজ অনুভূতি ফিরে আসে, মেজাজ ভালো থাকে এবং ক্লান্তি কমে। ২০২১ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসেও স্বল্প সময়ের ন্যাপকে উৎপাদনশীলতা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমের স্তরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্লিপ ইনারশিয়া’ বলা হয়।

এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম রাতের স্বাভাবিক ঘুমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় ন্যাপ নেওয়ার ফলে রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়া বা অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনের ঘুম ৪০ মিনিটের বেশি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দিনের বেলা ৬০ মিনিটের বেশি সময় ঘুমালে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত দীর্ঘ ন্যাপ নেওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

অন্যদিকে, পরিমিত ন্যাপ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত অল্প সময়ের জন্য ন্যাপ নেন, তাদের মস্তিষ্কের আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত স্বল্প সময়ের ন্যাপ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের জৈবিক বয়স অন্যদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ বছর পর্যন্ত কম হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা দিনের বেলার ঘুমকে আরও কার্যকর করতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পড়া এড়াতে অ্যালার্ম ব্যবহার করা উচিত। আর যদি শুধু ক্লান্তি অনুভূত হয়, কিন্তু রাতে ঘুমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ঘুমানোর পরিবর্তে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা শরীরচর্চা করাও ভালো বিকল্প হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়সীমার মধ্যে নেওয়া একটি ছোট্ট ‘পাওয়ার ন্যাপ’ শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুমের বদলে পরিমিত বিশ্রামই সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
দিনের বেলার ঘুমে মিলবে উপকার, কিন্তু কত মিনিট?