বাংলাদেশ ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

বেনজীরের মামলার নথিপত্র দুবাইয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি দুদকের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সব তথ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৫ জুন) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতি মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব নথি চূড়ান্ত করে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, দুর্নীতির মামলার আসামি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

এনসিবি আবুধাবি বাংলাদেশকে জানিয়েছে, দেশটির ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে।

প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা, মামলার বিবরণ, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন, প্রযোজ্য আইন, শাস্তির বিধান এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক নথিপত্র আরবি ভাষায় অনুবাদ করে পাঠাতে হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, মানিলন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্যের বাইরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছেন বেনজীর আহমেদ এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

এছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি সরকারি চাকরিজীবী পরিচয় গোপন করে ব্যক্তিগত পেশার তথ্য ব্যবহার করে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় সাবেক পাসপোর্ট কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনার পর ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। পরবর্তীতে ওই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে।

রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় পরিচালিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একসময় দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সম্পদ গোপন, মানিলন্ডারিং এবং জালিয়াতির অভিযোগে চলমান তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

kalprakash.com/SAS

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বেনজীরের মামলার নথিপত্র দুবাইয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি দুদকের
জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরের মামলার নথিপত্র দুবাইয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি দুদকের

প্রকাশিত: ১১:৩০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সব তথ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৫ জুন) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতি মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব নথি চূড়ান্ত করে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, দুর্নীতির মামলার আসামি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

এনসিবি আবুধাবি বাংলাদেশকে জানিয়েছে, দেশটির ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে।

প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা, মামলার বিবরণ, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন, প্রযোজ্য আইন, শাস্তির বিধান এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক নথিপত্র আরবি ভাষায় অনুবাদ করে পাঠাতে হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, মানিলন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্যের বাইরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছেন বেনজীর আহমেদ এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

এছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি সরকারি চাকরিজীবী পরিচয় গোপন করে ব্যক্তিগত পেশার তথ্য ব্যবহার করে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় সাবেক পাসপোর্ট কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনার পর ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। পরবর্তীতে ওই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে।

রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় পরিচালিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একসময় দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সম্পদ গোপন, মানিলন্ডারিং এবং জালিয়াতির অভিযোগে চলমান তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

kalprakash.com/SAS

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
বেনজীরের মামলার নথিপত্র দুবাইয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি দুদকের