ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার ঘনিমহেষপুর এলাকায় একটি বিলুপ্ত সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (হাজারা) ও সাধারণ মানুষের পৈতৃক এবং খরিদসূত্রে মালিকানাধীন জমি দখলের অপচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে এসব অভিযোগ তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওফেল দাস। তিনি অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানার ঘনিমহেষপুর এলাকার ৭৪৬ নম্বর ঘনিমহেষপুর বহুমুখী জনকল্যাণ কৃষি সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া মামলা ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সরকারি নথি অনুযায়ী ১৯৯৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সমিতিটির কোনো বৈধ কার্যক্রম ছিল না। এছাড়া সমবায় অধিদপ্তরের ৩০ অক্টোবর ২০১৪ সালের আদেশে সমিতিটি বিলুপ্ত ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার লিখিত মতামতেও সমিতিটির বর্তমানে কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিবাদীপক্ষ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্যদের কাছে জমি বিক্রির চেষ্টা করছে। তারা আরও দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৭) ধারা অনুযায়ী সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না। অথচ সংশ্লিষ্টরা আইন অমান্য করে জমির মালিকানা দাবি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আদালত ও প্রশাসনিক দপ্তরে একাধিক মামলা ও আবেদন করা হয়েছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলার পর প্রতিপক্ষের করা ফৌজদারি রিভিশন মামলা (নং-১৪৪/২০২৩) ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দায়রা জজ আদালত খারিজ করেন। এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে একটি খারিজ খতিয়ান বাতিলের আদেশ দেন এবং ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নামঞ্জুর করেন বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ বারবার জমি দখলের চেষ্টা করায় তারা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এনজিআর মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আইনি প্রক্রিয়ায় সফল না হয়ে প্রতিপক্ষ একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় নতুন করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রমজান আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিলুপ্ত সমিতির নামে একটি কমিটিকে অনুমোদনের অভিযোগও তোলা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আদালত ও ভূমি প্রশাসনের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জেলা সমবায় কর্মকর্তার অনুমোদন দেওয়া কমিটি বাতিল করা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা তাদের পৈতৃক ও খরিদসূত্রে অর্জিত সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি 























