বাংলাদেশ ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

কাগজপত্রবিহীন ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ, ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় একটি বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২ জনকে আসামি করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া মামলার বাদী।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ-এর নামে সরিষার খৈলবাহী একটি ভারতীয় ট্রাক গত ২৩ জুন রাত ৯টার দিকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে পণ্য খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ ৫০ বস্তা দামি শাড়ি, থ্রি-পিস ও প্রসাধনীসামগ্রী ৩২ নম্বর ইয়ার্ডে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ভারতীয় ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিকেল ৫টার দিকে ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেটি আটক করা হয়।

খবর পেয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। পরে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর ভারতীয় ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাক, এর চালক ও হেলপারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার পর কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল এবং পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বন্দরে প্রবেশ করা প্রতিটি আমদানিকৃত ট্রাক প্রথমে বিজিবির তল্লাশি, পরে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ ওজন পরীক্ষা এবং সর্বশেষ আধুনিক স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া বন্দরে প্রায় ৩৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও অসাধু চক্রের একটি অংশ যোগসাজশ কিংবা নজরদারির ফাঁক গলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বন্দরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এদিকে, চলতি মাসে কাস্টমসের দায়ের করা পণ্য পাচারের আগের তিনটি মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে বৈধ পথে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
কাগজপত্রবিহীন ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ, ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
জনপ্রিয় সংবাদ

কাগজপত্রবিহীন ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ, ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ০১:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় একটি বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২ জনকে আসামি করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া মামলার বাদী।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ-এর নামে সরিষার খৈলবাহী একটি ভারতীয় ট্রাক গত ২৩ জুন রাত ৯টার দিকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে পণ্য খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ ৫০ বস্তা দামি শাড়ি, থ্রি-পিস ও প্রসাধনীসামগ্রী ৩২ নম্বর ইয়ার্ডে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ভারতীয় ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিকেল ৫টার দিকে ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেটি আটক করা হয়।

খবর পেয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। পরে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর ভারতীয় ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাক, এর চালক ও হেলপারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার পর কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল এবং পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বন্দরে প্রবেশ করা প্রতিটি আমদানিকৃত ট্রাক প্রথমে বিজিবির তল্লাশি, পরে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ ওজন পরীক্ষা এবং সর্বশেষ আধুনিক স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া বন্দরে প্রায় ৩৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও অসাধু চক্রের একটি অংশ যোগসাজশ কিংবা নজরদারির ফাঁক গলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বন্দরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এদিকে, চলতি মাসে কাস্টমসের দায়ের করা পণ্য পাচারের আগের তিনটি মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে বৈধ পথে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
কাগজপত্রবিহীন ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ, ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা