বাংলাদেশ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ বছর ধরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত আফসার আলী ক্ষমতার প্রভাব, ভয়ভীতি ও জবরদস্তির মাধ্যমে জমি দখল করে সেখানে একটি বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী শ্রী নির্মল কুমার সূত্রধর বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নন্দীকুজা এলাকায় কয়েক প্রজন্ম ধরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার বসবাস করে আসছে। প্রায় ৩০ বছর আগে অভিযুক্ত আফসার আলী ওই এলাকায় প্রায় ৩০ শতক জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি আশপাশের হিন্দু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নির্মল কুমার সূত্রধরের কাকা ভারতে চলে যাওয়ার পর তার ১০ শতক জমি কেনার দাবি করেন আফসার আলী। তবে ১০ শতক জমি কেনার কথা বলে তিনি জোরপূর্বক ১৫ শতক জমি দখল করে নেন। এরপর ভয়ভীতি, প্রভাব ও জবরদস্তির মাধ্যমে আশপাশের আরও কয়েকজনের জমি দখল করে প্রায় ৬০ শতক জমির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। দখল করা জমির ওপর নির্মাণ করেন একটি তিনতলা বিলাসবহুল বাড়ি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, আফসার আলীর ক্ষমতা ও অর্থের প্রভাবে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ভুক্তভোগী বলেন,
“আমরা সংখ্যালঘু মানুষ। আফসার আলী এখানে এক ধরনের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমাদের অনেকেরই জমি তার দখলে রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হামলা ও মারধর করা হয়। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগকারী শ্রী নির্মল কুমার সূত্রধর বলেন,
“আমার কাকার জমি দখলের মধ্য দিয়েই এ ঘটনার শুরু। এখন আমাদের পৈতৃক ভিটার অস্তিত্বই হুমকির মুখে। আমরা আমাদের জমি ফিরে পেতে এবং নিরাপদে বসবাসের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আফসার আলী বলেন, তিনি কারও জমি দখল করেননি। তার জমির মধ্যে যদি অন্য কারও জমি থেকে থাকে, তবে তিনি সেটি ন্যায্য মূল্যে কিনে নিতে প্রস্তুত।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন,
“জমি দখলের অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ
জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ বছর ধরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত আফসার আলী ক্ষমতার প্রভাব, ভয়ভীতি ও জবরদস্তির মাধ্যমে জমি দখল করে সেখানে একটি বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী শ্রী নির্মল কুমার সূত্রধর বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নন্দীকুজা এলাকায় কয়েক প্রজন্ম ধরে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার বসবাস করে আসছে। প্রায় ৩০ বছর আগে অভিযুক্ত আফসার আলী ওই এলাকায় প্রায় ৩০ শতক জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি আশপাশের হিন্দু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নির্মল কুমার সূত্রধরের কাকা ভারতে চলে যাওয়ার পর তার ১০ শতক জমি কেনার দাবি করেন আফসার আলী। তবে ১০ শতক জমি কেনার কথা বলে তিনি জোরপূর্বক ১৫ শতক জমি দখল করে নেন। এরপর ভয়ভীতি, প্রভাব ও জবরদস্তির মাধ্যমে আশপাশের আরও কয়েকজনের জমি দখল করে প্রায় ৬০ শতক জমির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। দখল করা জমির ওপর নির্মাণ করেন একটি তিনতলা বিলাসবহুল বাড়ি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, আফসার আলীর ক্ষমতা ও অর্থের প্রভাবে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ভুক্তভোগী বলেন,
“আমরা সংখ্যালঘু মানুষ। আফসার আলী এখানে এক ধরনের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমাদের অনেকেরই জমি তার দখলে রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হামলা ও মারধর করা হয়। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগকারী শ্রী নির্মল কুমার সূত্রধর বলেন,
“আমার কাকার জমি দখলের মধ্য দিয়েই এ ঘটনার শুরু। এখন আমাদের পৈতৃক ভিটার অস্তিত্বই হুমকির মুখে। আমরা আমাদের জমি ফিরে পেতে এবং নিরাপদে বসবাসের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আফসার আলী বলেন, তিনি কারও জমি দখল করেননি। তার জমির মধ্যে যদি অন্য কারও জমি থেকে থাকে, তবে তিনি সেটি ন্যায্য মূল্যে কিনে নিতে প্রস্তুত।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন,
“জমি দখলের অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ