বাংলাদেশ ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

এনায়েতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসার সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু ইসহাক পুনর্বহাল

পাবনার চাটমোহর উপজেলার এনায়েতুল্লাহ ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ইসহাককে প্রায় ২০ মাস পর পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ১৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হলেও আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহকারী অধ্যাপক রবিউল করিম বাচ্চু এখনও মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ফাইলপত্র হস্তান্তর করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সিনিয়র আরবি শিক্ষক মাওলানা আবু ইসহাক। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল করিম বাচ্চু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা নিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

এর আগে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম চলাকালে রবিউল করিম বাচ্চুকে সাময়িক সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হলেও সরকারি নির্দেশনায় সেই নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল হয়। এরপর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কিছুদিন মাওলানা আবু ইসহাক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে রবিউল করিম বাচ্চু নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং আবু ইসহাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পক্ষের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী মাওলানা আবু ইসহাক দাবি করেন, ওই সময় তাকে বেআইনিভাবে অপসারণ করা হয় এবং তার প্রশাসনিক নথিপত্র ও চাবি জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসার কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিলে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা আসে যে, ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিনিয়র আরবি শিক্ষক হতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ জুন এডিসি (শিক্ষা) এর মাধ্যমে রেজুলেশন করে মাওলানা আবু ইসহাককে পুনরায় দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবিউল করিম বাচ্চু গত ২০ মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।

মাওলানা আবু ইসহাক বলেন, “আমাকে বেআইনিভাবে সরিয়ে দিয়ে দীর্ঘ সময় মাদ্রাসায় অনিয়ম হয়েছে। এখনো আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অন্যদিকে রবিউল করিম বাচ্চু বলেন, “কমিটির রেজুলেশনের ভিত্তিতেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি। এখন এডিসি শিক্ষা স্যারের রেজুলেশনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।”

চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল ইসলাম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিনিয়র আরবি শিক্ষকই হবেন। কমিটির সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশনের ভিত্তিতেই এখন দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
এনায়েতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসার সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু ইসহাক পুনর্বহাল
জনপ্রিয় সংবাদ

এনায়েতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসার সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু ইসহাক পুনর্বহাল

প্রকাশিত: ০৩:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পাবনার চাটমোহর উপজেলার এনায়েতুল্লাহ ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ইসহাককে প্রায় ২০ মাস পর পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ১৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হলেও আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহকারী অধ্যাপক রবিউল করিম বাচ্চু এখনও মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ফাইলপত্র হস্তান্তর করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সিনিয়র আরবি শিক্ষক মাওলানা আবু ইসহাক। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল করিম বাচ্চু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা নিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

এর আগে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম চলাকালে রবিউল করিম বাচ্চুকে সাময়িক সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হলেও সরকারি নির্দেশনায় সেই নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল হয়। এরপর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কিছুদিন মাওলানা আবু ইসহাক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে রবিউল করিম বাচ্চু নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং আবু ইসহাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পক্ষের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী মাওলানা আবু ইসহাক দাবি করেন, ওই সময় তাকে বেআইনিভাবে অপসারণ করা হয় এবং তার প্রশাসনিক নথিপত্র ও চাবি জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসার কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিলে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা আসে যে, ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিনিয়র আরবি শিক্ষক হতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ জুন এডিসি (শিক্ষা) এর মাধ্যমে রেজুলেশন করে মাওলানা আবু ইসহাককে পুনরায় দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবিউল করিম বাচ্চু গত ২০ মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।

মাওলানা আবু ইসহাক বলেন, “আমাকে বেআইনিভাবে সরিয়ে দিয়ে দীর্ঘ সময় মাদ্রাসায় অনিয়ম হয়েছে। এখনো আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অন্যদিকে রবিউল করিম বাচ্চু বলেন, “কমিটির রেজুলেশনের ভিত্তিতেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি। এখন এডিসি শিক্ষা স্যারের রেজুলেশনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।”

চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল ইসলাম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিনিয়র আরবি শিক্ষকই হবেন। কমিটির সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশনের ভিত্তিতেই এখন দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
এনায়েতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসার সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু ইসহাক পুনর্বহাল