২০১৬ সালের ২৩ জুন। গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পক্ষে রায় দেন। সেই সিদ্ধান্তের এক দশক পূর্তিতে ব্রিটেনের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজে ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ব্রেক্সিটের পক্ষের প্রচারকারীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ইইউ ছাড়লে যুক্তরাজ্য নিজের আইন, সীমান্ত এবং অর্থনীতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে। তবে বাস্তবে সেই যাত্রা সহজ হয়নি। বরং গত এক দশকে দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক ধীরগতি এবং সামাজিক বিভাজনের মুখোমুখি হয়েছে।
ব্রেক্সিট গণভোট ডেকেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। কিন্তু ফলাফল বিপক্ষে যাওয়ার পরদিনই তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং সর্বশেষ কিয়ার স্টারমার—প্রত্যেকেই ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হোঁচট খেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না; এটি ছিল অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং অতীতের গৌরবময় ব্রিটেনকে ঘিরে মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু ইইউ ত্যাগের পর অভিবাসন কমেনি, বরং বিভিন্ন সময়ে তা বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন জটিলতা এবং অর্থনৈতিক চাপও তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ ও লেবার—উভয় বড় দলকেই বিভক্ত করেছে। এর সুযোগ নিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে ছোট দলগুলো, বিশেষ করে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে।
এদিকে জনমতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, যুক্তরাজ্যের ৫২ শতাংশ নাগরিক আবারও ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে, যেখানে ৩৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করছেন। লন্ডনে পুনরায় ইইউতে যোগদানের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। ব্রেক্সিট এখনো এমন একটি স্পর্শকাতর ইস্যু, যা নিয়ে বড় দলগুলোর নেতারা প্রকাশ্যে আলোচনা করতে অনীহা দেখান। আর পুনরায় ইইউতে ফিরতে চাইলেও দীর্ঘ ও জটিল কূটনৈতিক পথ পাড়ি দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, ব্রেক্সিটের ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। বরং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ব্রিটেনের রাজনীতি ও সমাজে আজও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























