বাংলাদেশ ১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

টাস্কফোর্সের ওপর হামলা চালিয়ে ৪ আসামি ছিনতাই, সাড়াশি অভিযানে ফের গ্রেপ্তার

পঞ্চগড় জেলা শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানের সময় হ্যান্ডকাফসহ চার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার কিছু সময় পরই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই রাতেই পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স শহরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে শহরের হাজী মার্কেট এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকান থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে আসামিদের শের-ই-বাংলা পার্ক এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের গাড়িতে তোলার সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে হ্যান্ডকাফসহ চার আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় হামলাকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে টাস্কফোর্সের চার সদস্য আহত হন। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি গাড়ির কাঁচও ভাঙচুর করা হয়।

আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ট্রাফিক পুলিশ বক্স এলাকার কাছ থেকে কাটা হ্যান্ডকাফসহ চারজনকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— দিপু ইসলাম (৩৭), পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব; জয়নাল (৪২), রাজনগর এলাকার বাসিন্দা; শাহেন শাহ (৩৬), রাজনগর এলাকার বাসিন্দা; এবং হাসিবুর রহমান (২৫), পুরাতন ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া যুবদল নেতা দিপু ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাস্তা থেকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে এবং তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কাজে বাধা এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
টাস্কফোর্সের ওপর হামলা চালিয়ে ৪ আসামি ছিনতাই, সাড়াশি অভিযানে ফের গ্রেপ্তার
জনপ্রিয় সংবাদ

টাস্কফোর্সের ওপর হামলা চালিয়ে ৪ আসামি ছিনতাই, সাড়াশি অভিযানে ফের গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১১:১৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পঞ্চগড় জেলা শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানের সময় হ্যান্ডকাফসহ চার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার কিছু সময় পরই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই রাতেই পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স শহরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে শহরের হাজী মার্কেট এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকান থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে আসামিদের শের-ই-বাংলা পার্ক এলাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের গাড়িতে তোলার সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে হ্যান্ডকাফসহ চার আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় হামলাকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে টাস্কফোর্সের চার সদস্য আহত হন। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি গাড়ির কাঁচও ভাঙচুর করা হয়।

আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ট্রাফিক পুলিশ বক্স এলাকার কাছ থেকে কাটা হ্যান্ডকাফসহ চারজনকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— দিপু ইসলাম (৩৭), পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব; জয়নাল (৪২), রাজনগর এলাকার বাসিন্দা; শাহেন শাহ (৩৬), রাজনগর এলাকার বাসিন্দা; এবং হাসিবুর রহমান (২৫), পুরাতন ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া যুবদল নেতা দিপু ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাস্তা থেকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে এবং তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কাজে বাধা এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
টাস্কফোর্সের ওপর হামলা চালিয়ে ৪ আসামি ছিনতাই, সাড়াশি অভিযানে ফের গ্রেপ্তার