ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগকে কেন্দ্র করে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটি দাবি করেছে, সংসদে ব্যবহৃত শব্দটি অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালার পরিপন্থী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায় পিসিসিপি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ নিজেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘সমতলের নৃ-গোষ্ঠী’র প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে অধিবেশনের সভাপতিমণ্ডলীর শীর্ষ আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারকে সংগঠনটি অযাচিত ও অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে।
পিসিসিপি দাবি করে, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো ব্যবহার নেই এবং সরকার বিভিন্ন সময়ে জারি করা নির্দেশনায়ও এ শব্দ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩(ক) অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের পরিচিতি নির্ধারিত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংগঠনটি দাবি করে, এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলভাবে ব্যাখ্যা হয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
পিসিসিপি আরও উল্লেখ করে, জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বিতর্কিত বক্তব্যটি ‘এক্সপাঞ্জ’ করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের শব্দ ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি হলে সংগঠনটি কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জমির উদ্দিন।
kalprakash.com/SAS
চট্রগ্রাম প্রতিনিধি 
























