বাংলাদেশ ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ২ মাসের ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, নদীতে নামার প্রস্তুতিতে জেলেরা

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর টানা দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা জেলার প্রায় দুই লাখ জেলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে ভোলার ৭ উপজেলার জেলেরা ইতোমধ্যে জাল, ট্রলার ও মাছ ধরার সরঞ্জাম মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদীতীরবর্তী মাছের আড়তগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রাত ১২টার পর থেকেই আবার নদীতে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৩০ এপ্রিল রাত ১২টায়।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ভোলার ৭ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ৯০ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলিশ সম্পদ প্রকল্পের আওতায় আরও ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়।

সরেজমিনে সদর উপজেলার তুলাতুলি ও মেঘনা নদী তীর এলাকায় দেখা গেছে, জেলেরা শেষ মুহূর্তে ট্রলার ও জাল প্রস্তুত করছেন। অনেকেই রাতেই নদীতে নামার জন্য পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

জেলেরা জানান, দুই মাস কাজ না থাকায় চরম কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তারা আবার মাছ ধরতে গিয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন।

অন্যদিকে আড়তদাররা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এখন মাছ আসা শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তারা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়েও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ২ মাসের ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, নদীতে নামার প্রস্তুতিতে জেলেরা
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ২ মাসের ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, নদীতে নামার প্রস্তুতিতে জেলেরা

প্রকাশিত: ১১:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর টানা দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা জেলার প্রায় দুই লাখ জেলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে ভোলার ৭ উপজেলার জেলেরা ইতোমধ্যে জাল, ট্রলার ও মাছ ধরার সরঞ্জাম মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদীতীরবর্তী মাছের আড়তগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রাত ১২টার পর থেকেই আবার নদীতে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৩০ এপ্রিল রাত ১২টায়।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ভোলার ৭ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ৯০ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলিশ সম্পদ প্রকল্পের আওতায় আরও ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়।

সরেজমিনে সদর উপজেলার তুলাতুলি ও মেঘনা নদী তীর এলাকায় দেখা গেছে, জেলেরা শেষ মুহূর্তে ট্রলার ও জাল প্রস্তুত করছেন। অনেকেই রাতেই নদীতে নামার জন্য পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

জেলেরা জানান, দুই মাস কাজ না থাকায় চরম কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তারা আবার মাছ ধরতে গিয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন।

অন্যদিকে আড়তদাররা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এখন মাছ আসা শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তারা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়েও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ২ মাসের ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, নদীতে নামার প্রস্তুতিতে জেলেরা