বাংলাদেশ ১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, তবে সতর্ক অর্থনীতিবিদরা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ ডলারে, যেখানে ভারতের হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার।

আইএমএফের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং তুলনামূলক ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পূর্বাভাস নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। কারণ মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধি মানেই মানুষের জীবনমান বা অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এসেছে—এমনটি নয়।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির আকার, কাঠামো ও বৈচিত্র্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট বছরের মাথাপিছু জিডিপির তুলনা দিয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি বিচার করা ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার মাথাপিছু জিডিপি হিসাবের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কোনো দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে ডলারে হিসাব করা জিডিপি কমে যায়, ফলে তুলনামূলক অবস্থানও বদলে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হানও মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই পূর্বাভাস খুব বেশি স্বস্তির বার্তা নয়। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে, পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক সংকটও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে আবার ভারত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে এবং এই ধারা দীর্ঘমেয়াদেও অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাথাপিছু জিডিপি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটি একমাত্র মানদণ্ড নয়। আয় বৈষম্য, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোও একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, তবে সতর্ক অর্থনীতিবিদরা

প্রকাশিত: ০৪:২৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ ডলারে, যেখানে ভারতের হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার।

আইএমএফের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং তুলনামূলক ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পূর্বাভাস নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। কারণ মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধি মানেই মানুষের জীবনমান বা অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এসেছে—এমনটি নয়।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির আকার, কাঠামো ও বৈচিত্র্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট বছরের মাথাপিছু জিডিপির তুলনা দিয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি বিচার করা ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার মাথাপিছু জিডিপি হিসাবের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কোনো দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে ডলারে হিসাব করা জিডিপি কমে যায়, ফলে তুলনামূলক অবস্থানও বদলে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হানও মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই পূর্বাভাস খুব বেশি স্বস্তির বার্তা নয়। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে, পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক সংকটও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে আবার ভারত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে এবং এই ধারা দীর্ঘমেয়াদেও অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাথাপিছু জিডিপি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটি একমাত্র মানদণ্ড নয়। আয় বৈষম্য, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোও একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

kalprakash.com/SS