বাংলাদেশ ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের
প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার

প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার

দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি–এর নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে রপ্তানি আদেশের বিপরীতে অতিরিক্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তদন্তে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংঘটিত এই অনিয়মে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ, ভুয়া রপ্তানি আদেশ ব্যবহার, স্থানীয় বাজারে আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি এবং রাজস্ব ফাঁকির মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার ২৯ জন গ্রাহক প্রকৃত রপ্তানি আয়ের তুলনায় ১০০ শতাংশ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলেছেন। যদিও প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এলসি খোলার অনুমতি রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত এলসির মাধ্যমে প্রায় ৯৬৮ দশমিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি করা কাঁচামাল রপ্তানিতে ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিটে আরও দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব লেনদেনে সহযোগিতা করেছেন এবং কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাননি। একই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রপ্তানি আদেশ ও এলসির বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অনিয়মের উদাহরণ হিসেবে তদন্তে বলা হয়েছে, টোটাল ফ্যাশন ৩৬৪ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুললেও প্রকৃত রপ্তানি ছিল মাত্র ৬২ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে অ্যাভান্টি কালার টেক্স, ডোয়াস-ল্যান্ড অ্যাপারেলস, আহোনা নিট কম্পোজিট ও এইচকে অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রেও প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি এলসি খোলার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনিয়মের পুরো সময়জুড়ে মো. শহীদ হাসান মল্লিক নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকিং নীতিমালা ভঙ্গ করে তিনি টানা ১০ বছর একই শাখায় কর্মরত ছিলেন। আরও ২৪ কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় একই শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনজুর মফিজ জানিয়েছেন, প্রধান কার্যালয় ও কয়েকটি শাখায় ফরেনসিক অডিট চলছে এবং জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

যদিও তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৩ সালেই প্রস্তুত হয়েছিল, তবুও প্রায় তিন বছর পর চলতি বছরের মার্চে নারায়ণগঞ্জ শাখার অথরাইজড ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দাবি, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণেই ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়েছে।

এ ঘটনায় নাম আসা ব্যবসায়ীদের একজন ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেছেন, অনেক রপ্তানিকারকই জানতেন না যে তাদের নামে এলসি খোলা হয়েছে। তার দাবি, ব্যাংক কর্মকর্তারা ভুয়া কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিতে চাপ দিয়েছেন এবং রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখেছেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ এবং জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট–এর অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, ট্রেড ফাইন্যান্স খাতের অধিকাংশ অনিয়ম ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমেই ঘটে থাকে। তাই জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

kalprakash.com/SAS

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার

প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার

প্রকাশিত: ১১:১৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি–এর নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে রপ্তানি আদেশের বিপরীতে অতিরিক্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তদন্তে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংঘটিত এই অনিয়মে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ, ভুয়া রপ্তানি আদেশ ব্যবহার, স্থানীয় বাজারে আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি এবং রাজস্ব ফাঁকির মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার ২৯ জন গ্রাহক প্রকৃত রপ্তানি আয়ের তুলনায় ১০০ শতাংশ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলেছেন। যদিও প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এলসি খোলার অনুমতি রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত এলসির মাধ্যমে প্রায় ৯৬৮ দশমিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি করা কাঁচামাল রপ্তানিতে ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিটে আরও দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব লেনদেনে সহযোগিতা করেছেন এবং কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাননি। একই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রপ্তানি আদেশ ও এলসির বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অনিয়মের উদাহরণ হিসেবে তদন্তে বলা হয়েছে, টোটাল ফ্যাশন ৩৬৪ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুললেও প্রকৃত রপ্তানি ছিল মাত্র ৬২ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে অ্যাভান্টি কালার টেক্স, ডোয়াস-ল্যান্ড অ্যাপারেলস, আহোনা নিট কম্পোজিট ও এইচকে অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রেও প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি এলসি খোলার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনিয়মের পুরো সময়জুড়ে মো. শহীদ হাসান মল্লিক নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকিং নীতিমালা ভঙ্গ করে তিনি টানা ১০ বছর একই শাখায় কর্মরত ছিলেন। আরও ২৪ কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় একই শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনজুর মফিজ জানিয়েছেন, প্রধান কার্যালয় ও কয়েকটি শাখায় ফরেনসিক অডিট চলছে এবং জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

যদিও তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৩ সালেই প্রস্তুত হয়েছিল, তবুও প্রায় তিন বছর পর চলতি বছরের মার্চে নারায়ণগঞ্জ শাখার অথরাইজড ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দাবি, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণেই ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়েছে।

এ ঘটনায় নাম আসা ব্যবসায়ীদের একজন ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেছেন, অনেক রপ্তানিকারকই জানতেন না যে তাদের নামে এলসি খোলা হয়েছে। তার দাবি, ব্যাংক কর্মকর্তারা ভুয়া কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিতে চাপ দিয়েছেন এবং রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখেছেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ এবং জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট–এর অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, ট্রেড ফাইন্যান্স খাতের অধিকাংশ অনিয়ম ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমেই ঘটে থাকে। তাই জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

kalprakash.com/SAS