শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ৭:৫৪:১৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় টানা উত্থানের পর কমলো তেলের দাম

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৫:০০
শেয়ার: mail
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় টানা উত্থানের পর কমলো তেলের দাম

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে পতন দেখা গেছে। টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ৫৫ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৬ ডলার কমে ১০১ দশমিক ২ ডলারে নেমে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও বিশ্ব তেলের বাজারকে চাপে রেখেছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি করছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হলে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ফলে বেশিরভাগ সময়ই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ নিয়ে যেকোনো অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

এর আগে মঙ্গলবার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এই উত্থান দেখা যায়।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো দুর্বল।

চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে নজর রাখছে বাজার।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ বলছে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় চলতি বছরেও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।

তেলের দামের এই অস্থিরতা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে, যা বাজারে ভবিষ্যতে আরও বড় ওঠানামার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

kalprakash.com/SS

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | Globe kalprakash.com

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় টানা উত্থানের পর কমলো তেলের দাম

বিস্তারিত কমেন্টে