সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও অনলাইন অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভুয়া (ফেক) ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি কথিত সাইবার গ্রুপের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজের মনিটাইজেশন বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য ও বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘Cyber Zone’, ‘Rs Cyber Crimes’, ‘ECSF TEXT & PLP Update’, ‘Elite Cyber Security Force’, ‘Dark Net’, ‘The Cyber Security Force’, ‘Expart Cyber’, ‘Global Cyber’সহ বিভিন্ন নামে পরিচালিত কথিত সাইবার গ্রুপ এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের পর ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে দাবি করা হচ্ছে—এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের মনিটাইজেশন থাকবে না। স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত করতে এবং সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখতে ভুয়া আইডি ও মনিটাইজেশন বাতিলের ভয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে এসব কথিত সাইবার গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি টেলিগ্রাম (Telegram) চ্যানেল ও গ্রুপে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান এবং অর্থের বিনিময়ে তা বিক্রির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে উল্লিখিত টেলিগ্রাম লিংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—cybersohag121, linkZero_Trace_Defense, emonkhan64hdue, darknet_cyber_force_bd, WacfFile প্রভৃতি। অভিযোগ রয়েছে, এসব চ্যানেল ব্যবহার করে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য বিক্রির পাশাপাশি কিছু তথ্য ডার্ক ওয়েবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক হলো—কথিত এসব গ্রুপের বিভিন্ন চ্যানেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডাটাবেজ এবং সরকারের একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য আদৌ সংশ্লিষ্ট সরকারি ডাটাবেজ থেকে নেওয়া হয়েছে কি না, তথ্যগুলো কতটা নির্ভুল, আসল নাকি সম্পাদিত—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া অ্যাকাউন্টগুলো নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এসব ফেক অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা চক্র, তাদের ব্যবহৃত ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে প্রযুক্তিগত তদন্ত জরুরি।
সার্বিক ঘটনায় সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। ফেক আইডির প্রকৃত নিয়ন্ত্রক, হুমকিদাতা, সরকারি ডাটাবেজ ফাঁসের দাবির সত্যতা ও তথ্যের অবৈধ কারবারিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
kalprakash.com/IM