চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল দলিলের মাধ্যমে খাস ও ‘খ’ তফসিলভুক্ত সরকারি জমি নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবীণ গৃহস্থের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংবাদ প্রকাশের জেরে অনুসন্ধানী সাংবাদিককে হুমকি, গালিগালাজ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. ইসহাক আলী (সাহেব)।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইসহাক আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ কোর্ট চত্বরের একটি সরকারি গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে সেখানে বসে জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই গ্যারেজকে কেন্দ্র করে সরকারি জমি খারিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর এলাকার প্রবীণ গৃহস্থ মফিজুল ইসলামের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে সরকারি জমি খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইসহাক আলীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নাজির ও প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করেন। এরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মনগড়া চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সাংবাদিককে উদ্দেশ করে দেওয়া হুমকির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মূল ঘটনার তদন্ত ও সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতেই পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আদালত চত্বরের সরকারি গ্যারেজ কীভাবে এবং কোন শর্তে ইসহাক আলীর মতো বহিরাগত ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে আদালত চত্বরের নাজির মোহাম্মদ ওবায়দুল রহমান বলেন, কোনো ধরনের অন্যায় কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। গ্যারেজটি ব্যবহার করে অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ নজরে আসায় অভিযুক্ত ইসহাককে গ্যারেজ খালি করে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
এদিকে, সরকারি জমি খারিজের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, সরকারি জমি খারিজের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নামজারির নির্ধারিত সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা।
তিনি জানান, ‘খ’ তফসিলভুক্ত সরকারি জমি জাল দলিলের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি কানুনগোর পর্যালোচনায় ধরা পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট খারিজ আবেদনটি বাতিল করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে লিখিত তদন্তের ভিত্তিতে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও নিয়মিত ফৌজদারি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং আদালত চত্বরের সরকারি জায়গা ব্যবহার করে জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ—দুই ঘটনাই এখন তদন্তের আওতায় আসছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পুরো ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সরকারি খাস জমি খারিজের নামে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত এবং আদালত চত্বরের সরকারি গ্যারেজ ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ড কতদিন ধরে চলছিল?
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।