বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির। একের পর এক আইনি ও ব্যক্তিগত সংকটে জর্জরিত এই অভিনেত্রীর সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। সম্প্রতি ৬০ কোটি রুপির একটি প্রতারণা মামলায় স্বামী রাজ কুন্দ্রাসহ জড়িয়ে পড়েছেন আইনি জটিলতায়, যার জেরে আপাতত এই দম্পতির দেশত্যাগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরই মধ্যে এবার সম্পূর্ণ নতুন এক সাইবার বিপাকে পড়লেন শিল্পা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেত্রীর একাধিক বিকৃত ও ভুয়া ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে শুক্রবার বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিল্পা শেঠি। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে আদালত এসব কনটেন্টকে ‘অত্যন্ত বিরক্তিকর ও মর্মান্তিক’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিকৃত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চরম মানসিক অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন অভিনেত্রী। সেই কারণেই ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার দাবিতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
শিল্পা শেঠির অভিযোগ, তাঁর কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর ও মুখাবয়ব নকল করে নানা ভিডিও ও ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর নাম ব্যবহার করে অননুমোদিত বই ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও বানিয়ে তা অবাধে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনিতেই অভিনেত্রীর পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে; এর মধ্যে এই ধরনের বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর সম্পর্কে ভুল ও বিরূপ বার্তা যাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শিল্পার আইনজীবীদের বক্তব্য ও দাখিল করা স্ক্রিনশট খতিয়ে দেখে বম্বে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অবিলম্বে শিল্পা শেঠির সব ধরনের বিকৃত ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কারও ছবি বা পরিচয় অপব্যবহার করে এভাবে জনসমক্ষে হেনস্তা করা মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিচারপতি মন্তব্য করেন, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার কারও ব্যক্তিগত অধিকার ও শালীনতাকে এভাবে ক্ষুণ্ন করার এখতিয়ার নেই। যেসব ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এই সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
kalprakash.com/IM