মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৫০:০০
শিরোনাম
● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১
শেয়ার: mail
আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি

একটি রাত, একটি ম্যাচ, আর এক মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠা। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল আজ সাক্ষী হতে যাচ্ছে এমন এক বিদায়ের, যার অপেক্ষা কেউই করতে চায়নি। নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। যে জার্সিতে তিনি একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেন, বারবার ভেঙেছেন, আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয়ের পূর্ণতা পেয়েছেন। বেনিনের বিপক্ষে ৯০ মিনিট তাই নিছক প্রীতি ম্যাচ নয়; এটি এক কিংবদন্তির শেষ নাচ, এক যুগের অবসান এবং কোটি ভক্তের হৃদয়ে জমে থাকা অশ্রুভেজা ভালোবাসার মহার্ঘ মুহূর্ত।

মনে পড়ে কি ২০০৫ সালের সেই তরুণ মেসিকে? এলোমেলো চুল, লাজুক চোখ আর পায়ের পাতায় যেন লুকিয়ে থাকা এক অদৃশ্য জাদু। যে কিশোর একদিন আর্জেন্টিনার আকাশে ছোট্ট এক তারা হয়ে উদিত হয়েছিল। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ২১টি বসন্ত। এই দীর্ঘ পথচলায় কত শত নির্ঘুম রাত, কত অশ্রুসিক্ত পরাজয়, কত গোলের উন্মাদনা, কত হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ফুটবল-স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছেছেন তিনি।

২০৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ১২৫টি গোল, ৬৮টি অ্যাসিস্ট—পরিসংখ্যানের খাতায় এগুলো হয়তো নিছক কিছু সংখ্যা। কিন্তু সংখ্যার কি আর ক্ষমতা আছে মেসিকে ঘিরে কোটি মানুষের সেই উন্মাদনা মাপার? একটি গোলের পর অচেনা মানুষের সঙ্গে আলিঙ্গন, একটি হারের পর নীরব চোখ, কিংবা বিশ্বকাপ হাতে তুলে নেওয়ার সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্ত—এসব তো কোনো পরিসংখ্যানের ঘরে বন্দী করা যায় না। গত দুই দশকে মেসি শুধু গোল-অ্যাসিস্টের হিসাব লেখেননি, লিখেছেন ফুটবলের এক আবেগঘন মহাকাব্য।

তবে মেসির এই ভালোবাসার গল্প সব সময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নীল-সাদা জার্সির প্রেমে পড়ে তাঁকে সইতে হয়েছে তীব্র সমালোচনা, অপবাদ আর একের পর এক হৃদয়ভাঙা রাত। ২০১৪ সালের মারাকানার সেই বিষাদময় ফাইনাল, এরপর পরপর দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের যন্ত্রণা—আর্জেন্টিনার জার্সি যেন তখন মেসির কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছিল এক বুক দীর্ঘশ্বাস। ২০১৬ সালে সেই যন্ত্রণার ভার এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে হৃদয়ের সমস্ত রক্তক্ষরণ বুকে নিয়ে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মহাকাব্য কি আর সেখানেই থেমে যায়? কিছু গল্পের শেষ লেখা থাকে না! সময় অপেক্ষা করে নতুন এক অধ্যায়ের জন্য।

আর সেই নতুন অধ্যায়ের শুরুটা হয়েছিল ২০২১ সালে, সেই মারাকানার মাটিতেই। যে মাঠ একদিন তাঁকে কাঁদিয়েছিল, সেখানেই কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতে ফুটবল-দেবতার মতো দাঁড়ালেন মেসি। যেন বছরের পর বছর জমে থাকা সব অভিমান এক মুহূর্তে ধুয়ে গেল। এরপর ফিনালিসিমা, কাতারের সেই অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ রাত, আর ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা—একটির পর একটি ট্রফি এসে পূর্ণতা দিল অসমাপ্ত রূপকথাকে। মেসি শুধু শিরোপাই জেতেননি; একসময় যেসব আর্জেন্টাইন সমর্থকের ক্ষোভ তাঁর দিকে ধেয়ে আসত, তাঁদের হৃদয়ের গভীরে নিজেকে খোদাই করে নিয়েছেন চিরকালের ভালোবাসায়। মরুভূমির বুকে বিশ্বকাপ হাতে তাঁর সেই রাজকীয় পদচারণা তাই শুধু একটি উদ্‌যাপনের দৃশ্য নয়—ফুটবল ইতিহাসের ক্যানভাসে আঁকা এক অমর চিত্রকর্ম।

২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসিই ছিলেন আর্জেন্টিনার পথচলার অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি। ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ আর ছোঁয়া হয়নি, কিন্তু ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে তিনি আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন—বয়স শরীরের ক্যালেন্ডারে বাড়ে, জাদুর পায়ে নয়। তবে সব রাজকীয় গল্পেরই তো একদিন যবনিকা নামে। ৩১ আগস্টের সেই ঘোষণার পর অবশেষে এসে গেছে সেই প্রতীক্ষিত ক্ষণ—নিজের শহরে, নিজের মানুষের সামনে, বুয়েনস আইরেসের বুকেই নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো বিদায় বলার রাত।

আজ মনুমেন্তাল পরিণত হবে এক বিশাল সাদা-আকাশী সমুদ্রে। ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষ সেখানে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে আসবে না; তারা আসবে প্রিয় কিংবদন্তির শেষ পদচিহ্নটুকু চোখে ধারণ করতে, হৃদয়ে চিরদিনের জন্য রেখে দিতে। রদ্রিগো দে পল, লো সেলসোদের কাছে এই ম্যাচ তাই আর দশটা ম্যাচের মতো নয়—অধিনায়কের পাশে শেষবার মাঠে দাঁড়ানোর আবেগে ভারী হয়ে থাকবে প্রতিটি মুহূর্ত। আর ক্রিস্তিয়ান রোমেরোদের কাঁধে তখন ধীরে ধীরে এসে পড়বে নতুন সময়ের দায়িত্ব—এক কিংবদন্তির রেখে যাওয়া নীল-সাদা পতাকা আগামীর সূর্যের দিকে বয়ে নেওয়ার দায়িত্ব।

আজ তাই শুধু একটি ম্যাচের রাত নয়। আজ একটি যুগের শেষ রাত। মেসির অধ্যায় শেষ হবে, মহাজাদুকর দেখাবে তাঁর শেষ জাদু। আর তাঁর রেখে যাওয়া আলোয় শুরু হবে আর্জেন্টিনার নতুন কোনো ইতিহাস।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি

বিস্তারিত কমেন্টে