বাংলাদেশ ১০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি খৈলবাহী ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ-এর নামে সরিষার খৈলবোঝাই ভারতীয় ট্রাক (নং- WB-25K-8415) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ট্রাকটি বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে পণ্য খালাসের জন্য যাচ্ছে—এমন তথ্য দেখিয়ে ইয়ার্ড ত্যাগ করে।

অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই বিশেষ কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি আটক করে। পরবর্তীতে কাস্টমসকে অবহিত করা হলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিতে ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল এবং ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন পাওয়া যায় ৬ হাজার ৯১৩ কেজি।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ হাজার ৯১৩ কেজি খৈল। অর্থাৎ ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল-এর নাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নাম অপব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা তাদের জানা নেই। ট্রাক বা পণ্যচালান গ্রহণের সঙ্গে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি না করার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালানটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ
জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

প্রকাশিত: ১০:৪৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি খৈলবাহী ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ-এর নামে সরিষার খৈলবোঝাই ভারতীয় ট্রাক (নং- WB-25K-8415) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ট্রাকটি বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে পণ্য খালাসের জন্য যাচ্ছে—এমন তথ্য দেখিয়ে ইয়ার্ড ত্যাগ করে।

অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই বিশেষ কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি আটক করে। পরবর্তীতে কাস্টমসকে অবহিত করা হলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিতে ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল এবং ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন পাওয়া যায় ৬ হাজার ৯১৩ কেজি।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ হাজার ৯১৩ কেজি খৈল। অর্থাৎ ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল-এর নাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নাম অপব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা তাদের জানা নেই। ট্রাক বা পণ্যচালান গ্রহণের সঙ্গে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি না করার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালানটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ