বাংলাদেশ ১০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

পণ্যপাচার ও শুল্ক ফাঁকি মামলায় ২৪ জন আসামি : এক সপ্তাহেও গ্রেফতার নেই

  • কাল প্রকাশ
  • প্রকাশিত: ০৬:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • 64

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড থেকে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আরও দুটি মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নতুন এ দুই মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি এবং আমদানিকারকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এর আগে একই ধরনের ঘটনায় প্রায় সাত কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ফলে গত এক সপ্তাহে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন ভারত থেকে ৩২৬ কার্টন কালার পেন্সিল, ওয়াটার কালার পেন্সিল ও ইরেজার (রাবার) আমদানির একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে প্রবেশ করে। ভারতের কোহিনুর এক্সপোর্টের রপ্তানি করা এ চালানের আমদানিকারক যশোরের শার্শা উপজেলার টিএস ইন্টারন্যাশনাল।

তদন্তে দেখা যায়, বৈধ ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ কার্টন উচ্চ শুল্কযুক্ত ভারতীয় পণ্য আনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩০ কার্টন উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ধরনের শাড়ি এবং ২০ কার্টন ফেসওয়াশ। রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে ঘোষণাবহির্ভূত এসব পণ্য আনার তথ্য পেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালানটি জব্দ করে।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ভারত থেকে আমদানিকৃত একটি চালানে ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের শাড়ি ও থ্রি-পিস আমদানি করে শাফা ইমপেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পণ্যগুলো জব্দ করে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হয়। তবে পরে অভিযোগ ওঠে, কোরবানির ঈদের ছুটির সময় বন্দরের হেফাজতে থাকা চালান থেকে রহস্যজনকভাবে দামি ভারতীয় পণ্য উধাও হয়ে যায়। এর পরিবর্তে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়।

এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধে চরমপত্র দিয়েছে।

ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পাশাপাশি উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মো. রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকার নুসরাত ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত একটি চালানে ‘সিনথেটিক ফেব্রিকস অ্যান্ড লেস’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করে বেনাপোলের খাজা এন্টারপ্রাইজ। ৩১ মার্চ বন্দরে প্রবেশ করা চালানটি ১৯ নম্বর শেডে খালাস করা হয়।

ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্যাকেজ সংখ্যা ছিল ২৬০টি। তবে গণনার সময় অতিরিক্ত সাতটি প্যাকেজ পাওয়া যায়। এসব প্যাকেজে ঘোষণাবহির্ভূত উন্নতমানের ভারতীয় শাড়ি পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২৫০টি মিডিয়াম মানের এবং ৪২৯টি গর্জিয়াস শাড়ি ছিল। মোট ৬৭৯টি শাড়ি জব্দ করা হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এ চালানের মাধ্যমে সরকারের প্রায় এক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।

এ ছাড়া বন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকেও ২৫ মেট্রিক টন পণ্য পাচার ও বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।

এসব ঘটনায় গত ১৪ জুন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ও কাজী নাঈম উদ্দীন পৃথক দুটি মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। এর আগে ৯ জুন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহামুদুল আরেফিন আরেকটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করেন।

কাস্টমসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী—যেই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “বন্দরের শেড থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। যে কোনো মূল্যে এ ধরনের অপরাধ দমন করা হবে।”

বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান বলেন, “তিনটি মামলার আসামিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও বন্দর থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “বন্দরের প্রতিটি শেডে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল ও সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া কয়েক কোটি টাকার পণ্য সরিয়ে নেওয়া কার্যত অসম্ভব। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।”

বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ রুবেল জানান, গত কয়েক মাসে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানির অভিযোগে ১৪টি চালান জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছিল। এ অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
পণ্যপাচার ও শুল্ক ফাঁকি মামলায় ২৪ জন আসামি : এক সপ্তাহেও গ্রেফতার নেই
জনপ্রিয় সংবাদ

পণ্যপাচার ও শুল্ক ফাঁকি মামলায় ২৪ জন আসামি : এক সপ্তাহেও গ্রেফতার নেই

প্রকাশিত: ০৬:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড থেকে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আরও দুটি মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নতুন এ দুই মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি এবং আমদানিকারকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এর আগে একই ধরনের ঘটনায় প্রায় সাত কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ফলে গত এক সপ্তাহে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন ভারত থেকে ৩২৬ কার্টন কালার পেন্সিল, ওয়াটার কালার পেন্সিল ও ইরেজার (রাবার) আমদানির একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে প্রবেশ করে। ভারতের কোহিনুর এক্সপোর্টের রপ্তানি করা এ চালানের আমদানিকারক যশোরের শার্শা উপজেলার টিএস ইন্টারন্যাশনাল।

তদন্তে দেখা যায়, বৈধ ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ কার্টন উচ্চ শুল্কযুক্ত ভারতীয় পণ্য আনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩০ কার্টন উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ধরনের শাড়ি এবং ২০ কার্টন ফেসওয়াশ। রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে ঘোষণাবহির্ভূত এসব পণ্য আনার তথ্য পেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালানটি জব্দ করে।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ভারত থেকে আমদানিকৃত একটি চালানে ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের শাড়ি ও থ্রি-পিস আমদানি করে শাফা ইমপেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পণ্যগুলো জব্দ করে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হয়। তবে পরে অভিযোগ ওঠে, কোরবানির ঈদের ছুটির সময় বন্দরের হেফাজতে থাকা চালান থেকে রহস্যজনকভাবে দামি ভারতীয় পণ্য উধাও হয়ে যায়। এর পরিবর্তে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়।

এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধে চরমপত্র দিয়েছে।

ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পাশাপাশি উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মো. রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকার নুসরাত ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত একটি চালানে ‘সিনথেটিক ফেব্রিকস অ্যান্ড লেস’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করে বেনাপোলের খাজা এন্টারপ্রাইজ। ৩১ মার্চ বন্দরে প্রবেশ করা চালানটি ১৯ নম্বর শেডে খালাস করা হয়।

ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্যাকেজ সংখ্যা ছিল ২৬০টি। তবে গণনার সময় অতিরিক্ত সাতটি প্যাকেজ পাওয়া যায়। এসব প্যাকেজে ঘোষণাবহির্ভূত উন্নতমানের ভারতীয় শাড়ি পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২৫০টি মিডিয়াম মানের এবং ৪২৯টি গর্জিয়াস শাড়ি ছিল। মোট ৬৭৯টি শাড়ি জব্দ করা হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এ চালানের মাধ্যমে সরকারের প্রায় এক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।

এ ছাড়া বন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকেও ২৫ মেট্রিক টন পণ্য পাচার ও বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।

এসব ঘটনায় গত ১৪ জুন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ও কাজী নাঈম উদ্দীন পৃথক দুটি মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। এর আগে ৯ জুন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহামুদুল আরেফিন আরেকটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করেন।

কাস্টমসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী—যেই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “বন্দরের শেড থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। যে কোনো মূল্যে এ ধরনের অপরাধ দমন করা হবে।”

বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান বলেন, “তিনটি মামলার আসামিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও বন্দর থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “বন্দরের প্রতিটি শেডে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল ও সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া কয়েক কোটি টাকার পণ্য সরিয়ে নেওয়া কার্যত অসম্ভব। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।”

বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ রুবেল জানান, গত কয়েক মাসে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানির অভিযোগে ১৪টি চালান জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছিল। এ অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
পণ্যপাচার ও শুল্ক ফাঁকি মামলায় ২৪ জন আসামি : এক সপ্তাহেও গ্রেফতার নেই