সাইপ্রাসে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সাইপ্রাস পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (লার্নাকা সিআইডি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই বাংলাদেশি যুবকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঘটনাটিকে সাধারণ নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত অপহরণ, গুম এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে স্বাধীনতা হরণের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে।
পুলিশ ও লার্নাকা সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অথবা শুক্রবার (১২ জুন) প্রথম কর্মদিবসে কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলে লার্নাকার কফিনৌ (Kofinou) এলাকার একটি কারখানার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহরিয়ার। তবে তিনি ঠিক কোন কারখানায় বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর রুমমেট বা বন্ধুদের স্পষ্ট কিছু জানাননি। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তিনি এক বন্ধুর কাছে নিজের সুনির্দিষ্ট ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠান।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওই বার্তাটি পাঠানোর পর থেকেই শাহরিয়ারের সঙ্গে সব ধরনের স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বিদেশে অবস্থানরত তাঁর বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত স্থান থেকে একটি কল এবং বেশ কয়েকটি খুদে বার্তা আসে। সেখানে শাহরিয়ারের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং অন্যথায় বিপদের হুমকি দেওয়া হয়। ছেলের ফোন থেকে পাঠানো শেষ বার্তাটিতে মূলত তাঁকে উদ্ধারের জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছিল।
এরপর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুদের কোনো কলই আর গ্রহণ করা হচ্ছে না।
লার্নাকা পুলিশের যোগাযোগ শাখা জানিয়েছে, শাহরিয়ারের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সম্ভাব্য সব ধরনের অপরাধমূলক উপাদান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের সব পথই খোলা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে লার্নাকা সিআইডির একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল এবং সম্ভাব্য যাতায়াতপথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
একই সঙ্গে নিখোঁজ যুবকের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল ট্র্যাক করে তাঁর অবস্থান শনাক্তের জন্য প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে লার্নাকা পুলিশ স্টেশনের ২৪৮০৪০৬০ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মাহবুব আলম মিনার, সাইপ্রাস প্রতিনিধি 





















