ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বপরাশক্তি হওয়ার স্বপ্নে বছরের পর বছর বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই ধনী দেশ সৌদি আরব ও কাতার। আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের দলে ভেড়ানো এবং ফুটবল উন্নয়নে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেও চলমান বিশ্বকাপে প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেনি তারা। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দুই দলকেই।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব। গ্রুপ ‘এইচ’-এ তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা। একই গ্রুপে থাকা মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার কেপ ভার্দে তিন ম্যাচে তিনটি ড্র করে রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।
জাতীয় দলের এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াসের আল-মিশহাল। অথচ ক্লাব ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার ও করিম বেনজেমার মতো তারকাদের এনে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সৌদি প্রো লিগ।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি কোচ জর্জিয়াস ডোনিসও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সমমানের দলের বিপক্ষেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।
অন্যদিকে ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতারও গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে এক পয়েন্ট পেলেও নকআউটে ওঠা হয়নি তাদের। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও স্পেন কোচ হুলেন লোপেতেগির অধীনেও বদলায়নি ভাগ্য।
মাত্র ৩০ লাখ জনসংখ্যার কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আটটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণসহ ফুটবল উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু সেই বিনিয়োগ এখনো আন্তর্জাতিক সাফল্যে রূপ নিতে পারেনি।
লোপেতেগির মতে, ছোট দেশ হলেও কাতারের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ও বিনিয়োগ অনেক বড়। তিনি বলেন, প্রতিদিন উন্নতি করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।
চলমান বিশ্বকাপ আবারও প্রমাণ করল—শুধু অর্থ নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্য পেতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী খেলোয়াড় তৈরির ভিত্তি এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।
অনলাইন ডেস্ক 






















