জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কর্তৃক বারবার অসাংবিধানিক ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা।
আজ (২১ জুন) রোববার দুপুরে পিসিসিপির একটি প্রতিনিধি দল রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করে। একই সঙ্গে স্মারকলিপির অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
স্মারকলিপিটি রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক রিমন এবং সদস্য আশরাফুল ইসলাম, মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মো. অন্তর।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১৪ জুন ২০২৬ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১৯ নম্বর) সংসদ সদস্য আন্না মিনজ নিজেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘সমতলের নৃ-গোষ্ঠী’র প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করেন। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, এ ধরনের শব্দ প্রয়োগ সংবিধানের ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
পিসিসিপির নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো উল্লেখ নেই। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ জনগোষ্ঠীকে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ ও ২০২২ সালে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত বা নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের কিছু উগ্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে—
১. জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার (এক্সপাঞ্জ) করে তাকে সতর্ক করতে হবে।
২. ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার স্বার্থে সরকারের সব স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের অসাংবিধানিক শব্দ প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
স্মারকলিপির শেষাংশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তারা সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন এবং এ বিষয়ে সরকারের যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















