বাংলাদেশ ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

জাইমার অন্যরকম আড্ডা

  • জাতীয় ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০১:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • 75

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার ৯০ জন কৃতী শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রাণবন্ত ও হৃদ্যতাপূর্ণ আড্ডায় অংশ নিয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের বড় মেয়ে মেহভীন রহমান মুনিয়া এ আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও মনোযোগী হতে হবে। বহুমুখী দক্ষতা অর্জনই একজনকে দেশ ও সমাজের জন্য উপযোগী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চান এবং নিজের অভিজ্ঞতাও তাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। শিশুদের আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন তিনি।

আড্ডার এক পর্যায়ে রান্না প্রসঙ্গে মজার ছলে তিনি শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেন, তারা কেউ রান্না করতে পারে কি না। কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতিবাচক উত্তর দিলে তিনি হাস্যরস করে বলেন, “তোমাদের এলাকায় গেলে আমাকে কী খাওয়াবে?” জবাবে শিশুরা বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়ানোর কথা জানালে তিনি ইলিশ মাছসহ বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। এতে পুরো পরিবেশ আনন্দমুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবদারে তিনি টি-শার্টে অটোগ্রাফ দেন এবং তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন। তাঁর সহজ-সরল ও আন্তরিক আচরণে শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়।

কসবা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাফনাহ ইসলাম নাযিফা বলেন, তিনি আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দিয়েছেন।

রামধননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান ওসমান রাহিন বলেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করে খুব ভালো লেগেছে। তিনি নিয়মিত পড়াশোনা ও পরিবারের কথা শোনার পরামর্শ দিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলী বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টার এই আয়োজনে জাইমা রহমান প্রতিটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করেছেন।

আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আখাউড়া ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, এটি শিশুদের জন্য একটি অসাধারণ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

kalprakash.com/SAS

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
জাইমার অন্যরকম আড্ডা
জনপ্রিয় সংবাদ

জাইমার অন্যরকম আড্ডা

প্রকাশিত: ০১:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার ৯০ জন কৃতী শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রাণবন্ত ও হৃদ্যতাপূর্ণ আড্ডায় অংশ নিয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের বড় মেয়ে মেহভীন রহমান মুনিয়া এ আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও মনোযোগী হতে হবে। বহুমুখী দক্ষতা অর্জনই একজনকে দেশ ও সমাজের জন্য উপযোগী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চান এবং নিজের অভিজ্ঞতাও তাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। শিশুদের আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন তিনি।

আড্ডার এক পর্যায়ে রান্না প্রসঙ্গে মজার ছলে তিনি শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেন, তারা কেউ রান্না করতে পারে কি না। কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতিবাচক উত্তর দিলে তিনি হাস্যরস করে বলেন, “তোমাদের এলাকায় গেলে আমাকে কী খাওয়াবে?” জবাবে শিশুরা বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়ানোর কথা জানালে তিনি ইলিশ মাছসহ বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। এতে পুরো পরিবেশ আনন্দমুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবদারে তিনি টি-শার্টে অটোগ্রাফ দেন এবং তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন। তাঁর সহজ-সরল ও আন্তরিক আচরণে শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়।

কসবা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাফনাহ ইসলাম নাযিফা বলেন, তিনি আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দিয়েছেন।

রামধননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান ওসমান রাহিন বলেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করে খুব ভালো লেগেছে। তিনি নিয়মিত পড়াশোনা ও পরিবারের কথা শোনার পরামর্শ দিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলী বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টার এই আয়োজনে জাইমা রহমান প্রতিটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করেছেন।

আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আখাউড়া ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, এটি শিশুদের জন্য একটি অসাধারণ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

kalprakash.com/SAS

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
জাইমার অন্যরকম আড্ডা