গুজরাটের বনসকণ্ঠ জেলার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিজের স্ত্রীকে বিক্রি করে পরে নিজেই থানায় “নিখোঁজ” অভিযোগ দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে ঘিরে পরে পুরো ঘটনার মোড় পাল্টে যায় তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে পালানপুর পশ্চিম থানায় নিকেশ প্যাটেল নামের ওই যুবক তার স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেন। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই সন্দেহ বাড়ে পুলিশের। ধীরে ধীরে উঠে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য—এই নিখোঁজের ঘটনা আদতে সাজানো ছিল।
তদন্তে জানা যায়, স্ত্রীকে পছন্দ না করার কারণে নিকেশ প্যাটেল তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মিলে একটি পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীকে ৫০ হাজার রুপির বিনিময়ে একটি মানব পাচারচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্ত্রীকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নামে একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই পাচারকারীরা উপস্থিত ছিল।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে নিকেশ প্যাটেল পরে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার কয়েকজন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
পরে বিভিন্ন সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে একটি গোপন আস্তানা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, বিক্রির পর তাকে একাধিক জায়গায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রাখা হয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকি তার গয়না ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় মানব পাচার, অপহরণ, নির্যাতন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিকেশ প্যাটেলসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত এখনো চলমান।
kalprakash.com/SAS
অনলাইন ডেস্ক 






















