কোনো পুলিশ সদস্যের স্থায়ী বাড়ি যে জেলায়, সেই জেলার মহানগর পুলিশ ইউনিটে তাকে আর দায়িত্ব পালনে রাখা হবে না—এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার সদস্যদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহানগর পুলিশ ইউনিটে কর্মরত এবং নিজ জেলায় বাড়ি রয়েছে—এমন পুলিশ সদস্যদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, দু–এক দিনের মধ্যেই শতাধিক সদস্যকে বদলি করা হতে পারে। তবে অবসরের কাছাকাছি থাকা, অর্থাৎ সাত–আট মাসের মধ্যে অবসরগ্রহণকারী সদস্যদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।
বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর পুলিশ ইউনিট রয়েছে। আগে থেকেই নিজ জেলায় জেলা পুলিশের পদায়ন বন্ধ থাকলেও মহানগর পর্যায়ে এ নীতি পুরোপুরি কার্যকর ছিল না। তবে ২০২১–২২ সাল থেকে এ বিষয়ে ধীরে ধীরে কড়াকড়ি শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অপরাধচক্রের সঙ্গে কিছু পুলিশ সদস্যের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সদস্য স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হয়ে বদলি ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, ডিবি, থানা ও ট্রাফিক ইউনিটে দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারণে অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, যেখানে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই কর্মকর্তাকে অন্য রেঞ্জে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, একই জেলার বাসিন্দা হয়ে মহানগর পুলিশে কর্মরতদের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে শতাধিক কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যায়ের সদস্যের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন পরিদর্শকও এই বদলির তালিকায় রয়েছেন।
কাল প্রকাশ ডেস্ক 




















