পাবনার চাটমোহর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইদানীং উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পরিবর্তন করে বিকট শব্দ সৃষ্টির প্রবণতা। বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিছু তরুণ ফ্যাশন ও আধুনিকতার নামে মোটরসাইকেলের মূল সাইলেন্সার পরিবর্তন করে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী সাইলেন্সার ব্যবহার করছে। ফলে রাস্তাঘাট, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় সাধারণ মানুষ চরম শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতের বেলাতেও মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক সময় হঠাৎ উচ্চ শব্দে মানুষ চমকে উঠছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও রোগীদের বিশ্রামও ব্যাহত হচ্ছে।
চাটমোহর পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, কলেজ মোড়, হাসপাতাল সড়ক এবং গ্রামীণ সড়কগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় একদল তরুণ দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বিকট শব্দ সৃষ্টি করছে। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এসব শব্দ কেবল বিরক্তিকরই নয়, বরং এটি সামাজিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়, শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মোটরসাইকেলের পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। পাশাপাশি মোটরসাইকেল গ্যারেজগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে কেউ অবৈধভাবে বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী সাইলেন্সার সংযোজন করতে না পারে।
এ বিষয়ে প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শব্দদূষণের এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে।
পাবনা প্রতিনিধি 
















