দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কথিত মন্ত্রিসভা রদবদল ও সম্প্রসারণ নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে—এমন দাবি সম্বলিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রচারিত সংবাদে দাবি করা হয়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার মন্ত্রিসভার ব্যাপক সম্প্রসারণ ও রদবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং নতুন কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক মন্ত্রী এক মন্ত্রণালয় নীতির অংশ হিসেবে শায়খ রাবিউল আলমকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত, প্রস্তাব বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্পর্কে সরকার কিংবা দলীয় পর্যায়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সরকারের কোনো প্রজ্ঞাপন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা বা দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির বক্তব্যও এ বিষয়ে প্রকাশিত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি। অথচ আলোচিত প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সংবাদটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন মন্ত্রীকে ঘিরে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যাচাই-বাছাই ছাড়াই রাজনৈতিক গুঞ্জনকে সংবাদ হিসেবে প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ পাঠক বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা তৈরি হচ্ছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, কোনো মন্ত্রীকে অপসারণ, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন কিংবা নতুন নিয়োগের মতো বিষয়গুলো সাধারণত সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের ভঙ্গিতে সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল অপতথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক সংবেদনশীল ইস্যুতে গুজব বা অনুমাননির্ভর সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস ও সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় তা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
তবে আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশকারী গণমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
kalprakash.com/SS
কাল প্রকাশ 



















