পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা ও ভাঙনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বহিষ্কার ও বিতর্কের সূত্রপাত
ভোটের পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবপত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতি থাকার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকেই দলটির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের ইঙ্গিত দেখা দেয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
বৈঠকে অনুপস্থিতি ও জল্পনা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভেতরের টানাপোড়েনের একটি উদাহরণ হলো সম্প্রতি মমতা ব্যানার্জীর ডাকা বৈঠক। সেখানে ৮০ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে মাত্র প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দলের ঐক্য নিয়ে।
প্রকাশ্য বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
- শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে কার্যত উঠে যাওয়া দল বলে মন্তব্য করেন
- অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, তৃণমূলকে ভাঙা সম্ভব নয়
পরবর্তীতে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত ব্যানার্জী অতীতে নানা বিতর্কে জড়িত ছিলেন।
বিধানসভায় অভিযোগ ও তদন্ত
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষরের অসংগতি নিয়ে অভিযোগ উঠলে বিষয়টি পুলিশের সিআইডির কাছে তদন্তের জন্য যায়। একই সঙ্গে আদালত ও প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, স্বাক্ষর সংক্রান্ত অনিয়ম এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করে, তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং স্পিকারের বদলে দলীয় ফোরামে বিষয়টি তোলার কথা ছিল।
দলত্যাগের জল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রশ্ন
দুই বিধায়কের বহিষ্কারের পর বিধানসভায় তৃণমূলের আসনসংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭৮-এ। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়, আরও কিছু বিধায়ক দল ছাড়তে পারেন কিনা।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবে বড় কোনো ভাঙনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন বা রাজনৈতিক পরিবেশ—কোনোটিই এখনো স্পষ্ট নয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতি
দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রকাশ্য বিরোধ—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে এক ধরনের রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দলীয় নেতৃত্ব এখনও দাবি করছে, এই সবই সাময়িক অসন্তোষ এবং দলের ঐক্য অটুট থাকবে।
kalprakash.com/SAS
অনলাইন ডেস্ক 






















