ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক খেসারত বহন করতে হবে মার্কিন জনগণকেই।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সংঘাতে বাড়তে থাকা ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকানদের ওপরই পড়বে।
তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কিংবা শেয়ারবাজারের কৃত্রিম উত্থান সাময়িক বিষয়। প্রকৃত সংকট শুরু হবে যখন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ এবং গৃহঋণের সুদের হার বাড়তে থাকবে।
আরাঘচির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ ইতোমধ্যেই বেড়েছে এবং গাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার ভাষায়, “এসবই এড়ানো সম্ভব ছিল।”
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শনিবার পোপ পোপ লিও চতুর্দশ–কে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, ইরান এখনো কূটনীতি ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে ক্যাথলিক নেতার ‘নৈতিক ও যৌক্তিক অবস্থানের’ জন্য তেহরান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে যে হামলা চালিয়েছে, তা ‘বৈধ আত্মরক্ষার কাঠামোর মধ্যে’। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা’ পালনের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব দ্রুত ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধে তেহরানের সক্ষমতাকে তিনি অবমূল্যায়ন করেননি।
চীন সফর শেষে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর অবিশ্বাস্য রকমের কঠোর আঘাত হেনেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, চাইলে যুক্তরাষ্ট্র দুই দিনের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বারবার ভেঙে পড়েছে এবং তেহরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তার ভাষায়, “তারা আমাদের সবকিছু দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু পরদিনই এমন আচরণ করেছে যেন কোনো আলোচনা হয়নি।”
তিনি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ‘সহিংসতা’ অথবা ‘সংযম’—এই দুই পথের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি অবশ্যই সহিংসতা এড়াতেই বেশি আগ্রহী।
এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। পাল্টা জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যদিও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন।
সূত্র: আনাদলু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















