বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে। সোমবার (১১ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে বলে জানা গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৭৮.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৯ শতাংশ কমে ৪,৬৮৬.২০ ডলারে নেমেছে। ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে তেলের দাম বেড়ে যায়। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা হ্রাস পায়।
এদিকে চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে খনিগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে স্বর্ণ উৎপাদন কমেছে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। একই সময়ে রুপার দাম ০.৪ শতাংশ বাড়লেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ০.৭ ও ০.৬ শতাংশ কমেছে।
kalprakash.com/SS
বাণিজ্য ডেস্ক 

























