মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন। এর ফলে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদনের ৬০ দিনের সীমা আর প্রযোজ্য নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট সেনা মোতায়েন করতে পারলেও ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান পরিস্থিতিতে সেই আইন কার্যত প্রযোজ্য নয়।
চিঠিতে ট্রাম্প জানান, তিনি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন ও সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোর চাক গ্রাসলিকে পাঠানো চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি।
তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া শত্রুতা এখন শেষ হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আইনি সময়সীমার বিষয়টি আর কার্যকর নয়।
তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ক্ষমতার ভারসাম্য লঙ্ঘন করছে এবং যুদ্ধ ঘোষণা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সিনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার একে ‘অবৈধ যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দেন এবং রিপাবলিকানদের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করেন। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য জিন শাহীনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনারা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
অন্যদিকে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) জানিয়েছে, ওয়ার পাওয়ারস আইনে যুদ্ধ থামানোর কোনো ‘পজ’ বা ‘রিসেট’ ব্যবস্থা নেই, ফলে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা আইনি বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ককে নতুন করে তীব্র করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























