বাংলাদেশ ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

ইরানের অদৃশ্য নেতৃত্বে আসলে কারা? ক্ষমতার কেন্দ্রে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ছবি - রয়টার্স

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—চলমান সংকটের সময়ে দেশটির প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী আসলে কে? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের নেতৃত্ব কাঠামো আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে।

কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হওয়ায় ইরানের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এদিকে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ও দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে—এ প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও ইরানের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চললেও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক নেতৃত্বের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থিরতা কমে এসেছে এবং বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব বাড়ছে। ফলে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে কিছু ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে জনসমক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন নীতিগত ইস্যুতে বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে তার এই ভূমিকা কতটা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ভিত্তিতে—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনো কার্যকর থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান—প্রশাসন, কূটনীতি ও সামরিক বাহিনী—এর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, দেশটি একাধিক ফ্রন্টে সক্রিয় থাকলেও একটি সুসংহত ও একক কৌশলগত দিকনির্দেশনার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও আঞ্চলিক অবস্থান আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

ইরানের অদৃশ্য নেতৃত্বে আসলে কারা? ক্ষমতার কেন্দ্রে বাড়ছে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত: ০৬:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—চলমান সংকটের সময়ে দেশটির প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী আসলে কে? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের নেতৃত্ব কাঠামো আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে।

কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হওয়ায় ইরানের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এদিকে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ও দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে—এ প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও ইরানের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চললেও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক নেতৃত্বের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থিরতা কমে এসেছে এবং বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব বাড়ছে। ফলে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে কিছু ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে জনসমক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন নীতিগত ইস্যুতে বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে তার এই ভূমিকা কতটা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ভিত্তিতে—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনো কার্যকর থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান—প্রশাসন, কূটনীতি ও সামরিক বাহিনী—এর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, দেশটি একাধিক ফ্রন্টে সক্রিয় থাকলেও একটি সুসংহত ও একক কৌশলগত দিকনির্দেশনার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও আঞ্চলিক অবস্থান আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

kalprakash.com/SS