বাংলাদেশ ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

ইরান না চাইলেও ট্রাম্প কেন বাড়ালেন যুদ্ধবিরতি?

সংগৃহীত ছবি

ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ না এলেও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ একতরফাভাবে বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাসবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সায়িদ মার্কোস তেনোরিও বলছেন, এটিকে শুধু শান্তির উদ্যোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপ ও সামরিক বাস্তবতা।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এ প্রকাশিত এক কলামে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আসলে ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেই প্রকাশ করেছে। ইরানকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

তেনোরিওর মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা মূলত এক ধরনের কৌশলগত পিছু হটা। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের ওপর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া এখন আর সহজ নয়। যুদ্ধের সম্ভাব্য খরচ, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকের দাবি, মার্কিন ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে যেখানে নতুন সামরিক প্রস্তুতির জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাই এই বিরতির আড়ালেও নতুন কৌশল বা গোপন সামরিক পরিকল্পনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরানও বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তেনোরিও। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ইসরায়েলকে সামনে রেখে চাপ ধরে রাখতে চাইছে। অতীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে এমন কৌশল ব্যবহারের উদাহরণও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—হামলা ইসরায়েল থেকে এলেও তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তেহরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে একই কৌশলগত বলয়ের অংশ হিসেবে দেখছে।

বিশ্লেষণে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তেহরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তেনোরিও বলেন, প্রয়োজনে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে—যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করবে। ফলে এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়েও পরিণত হয়েছে।

তিনি মনে করেন, ইরানকে চাপে রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। কারণ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

সায়িদ মার্কোস তেনোরিওর ভাষায়, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ক্ষমতার প্রকাশ নয়; বরং এটি পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত। তার মতে, এখন মূল প্রশ্ন যুদ্ধ চলবে কি না, সেটি নয়—বরং দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, সেটিই বড় বিষয়।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

ইরান না চাইলেও ট্রাম্প কেন বাড়ালেন যুদ্ধবিরতি?

প্রকাশিত: ১১:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ না এলেও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ একতরফাভাবে বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাসবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সায়িদ মার্কোস তেনোরিও বলছেন, এটিকে শুধু শান্তির উদ্যোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপ ও সামরিক বাস্তবতা।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এ প্রকাশিত এক কলামে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আসলে ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেই প্রকাশ করেছে। ইরানকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

তেনোরিওর মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা মূলত এক ধরনের কৌশলগত পিছু হটা। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের ওপর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া এখন আর সহজ নয়। যুদ্ধের সম্ভাব্য খরচ, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকের দাবি, মার্কিন ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে যেখানে নতুন সামরিক প্রস্তুতির জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাই এই বিরতির আড়ালেও নতুন কৌশল বা গোপন সামরিক পরিকল্পনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরানও বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তেনোরিও। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ইসরায়েলকে সামনে রেখে চাপ ধরে রাখতে চাইছে। অতীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে এমন কৌশল ব্যবহারের উদাহরণও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—হামলা ইসরায়েল থেকে এলেও তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তেহরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে একই কৌশলগত বলয়ের অংশ হিসেবে দেখছে।

বিশ্লেষণে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তেহরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তেনোরিও বলেন, প্রয়োজনে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে—যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করবে। ফলে এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়েও পরিণত হয়েছে।

তিনি মনে করেন, ইরানকে চাপে রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। কারণ বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

সায়িদ মার্কোস তেনোরিওর ভাষায়, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ক্ষমতার প্রকাশ নয়; বরং এটি পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত। তার মতে, এখন মূল প্রশ্ন যুদ্ধ চলবে কি না, সেটি নয়—বরং দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, সেটিই বড় বিষয়।

kalprakash.com/SS