দশ দিনের রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন NASA-এর আর্টেমিস–২ মিশনের চার নভোচারী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের California-এর দক্ষিণ উপকূলে অবতরণ করে তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুল।
চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১ এপ্রিল, Kennedy Space Center থেকে। অভিযানে অংশ নেন Reid Wiseman, Victor Glover, Christina Koch এবং Jeremy Hansen। তাদের মধ্যে হ্যানসেন কানাডার নাগরিক, বাকি তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের।
মহাকাশে এই অভিযানে ওরিয়ন ক্যাপসুল প্রায় ১১ লাখ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এবং চাঁদের খুব কাছ দিয়ে ‘ফ্লাইবাই’ সম্পন্ন করে—যেখানে কোনো কক্ষপথে আবদ্ধ না হয়ে মহাকাশযান নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ঘুরে আসে।
পৃথিবীতে ফেরার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়, ফলে এটি আগুনের গোলকে পরিণত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অবতরণের পর ঠান্ডা হতে সময় নেওয়ায় উদ্ধারকাজেও সামান্য বিলম্ব হয়।
তবে সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে নভোচারীরা সুস্থ অবস্থায় ক্যাপসুল থেকে বের হন। তাদের উদ্ধারে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। রাতটি তারা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটান এবং পরদিন Houston-এ পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মিশনটি নানা কারণে ঐতিহাসিক। ১৯৭০ সালের Apollo 13-এর রেকর্ড ভেঙে আর্টেমিস–২ আরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে, এই প্রথম কোনো চন্দ্রাভিযানে নারী নভোচারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একজন বিদেশি (জেরেমি হ্যানসেন) অংশ নিলেন।
উল্লেখ্য, NASA ২০২৮ সালের মধ্যে আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক ধাপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এই আর্টেমিস–২ মিশন।
পৃথিবীতে ফেরার ঠিক আগে কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিও বার্তায় বলেন, চাঁদের দৃশ্য ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে—যেন বিদায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























