হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি প্রস্তাব মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটের জন্য উপস্থাপিত হবে। তবে ভেটো ক্ষমতা থাকা চীন শক্তি প্রয়োগের অনুমোদনে বিরোধিতা করায় প্রস্তাবটি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল আকারে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালানোর পর থেকে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই হামলার পর সংঘাত পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলায় তেহরান হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ।
১৫ সদস্যের কাউন্সিলের বর্তমান সভাপতি বাহরাইন প্রস্তাবটি পাস করানোর চেষ্টা করছে। তবে চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য সদস্যদের বিরোধিতা কাটিয়ে ওঠার জন্য একাধিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। রয়টার্সের কাছে আসা সবশেষ খসড়ায় শক্তি প্রয়োগের স্পষ্ট অনুমোদন রাখা হয়নি। বরং এতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক নৌপথ ব্যবহার করতে আগ্রহী দেশগুলোকে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগে সমন্বয় করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মধ্যে ‘বাণিজ্যিক ও মালবাহী জাহাজকে পাহারা দেয়া’ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগের সমর্থন জানানো হয়েছে।
কূটনীতিকরা জানান, শিথিল করা সংস্করণ পাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হলেও সফল হবে কি না তা এখনও অনিশ্চিত। প্রস্তাবটি গৃহীত হতে হলে অন্তত ৯টি ভোট প্রয়োজন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্য—যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভেটো থাকা যাবে না।
উল্লেখ্য, অন্যান্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র ও ওয়াশিংটনের সমর্থনে বাহরাইন গত বৃহস্পতিবার একটি খসড়া প্রকাশ করেছিল, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষার জন্য ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমোদন ছিল। তবে ভোট শুক্রবার ও শনিবার স্থগিত করা হয়েছিল।
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























