আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় দরপতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৩ থেকে ২.০৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থবাজারে নতুন প্রভাব ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে।
টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বার্ট মেলেক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারেনি। বরং এতে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি ও কঠোর সুদের নীতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এ সময় হরমুজ প্রণালি এলাকায় হামলার ঘটনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর একটি তেল বন্দরে অগ্নিকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদা কমে গেছে। কারণ ডলারে নির্ধারিত মূল্য অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় বেশি হয়ে ওঠে। পাশাপাশি ব্রেন্ট তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরে সুদের হার কমাবে না—এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে বার্কলেস। উচ্চ জ্বালানি মূল্যের প্রভাবে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ায় সম্প্রতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেড।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এতে সরাসরি মুনাফা পাওয়া যায় না।
বার্ট মেলেকের মতে, স্বর্ণের জন্য ৪ হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্তিশালী সাপোর্ট রয়েছে। তবে অনিশ্চয়তা ও সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনায় স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে সরে যেতে পারেন।
অন্য ধাতুর বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৯৫ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৫৫ দশমিক ৯৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারের এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে শিগগিরই স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
kalprakash.com/SAS
অনলাইন ডেস্ক 

























