দেশের অন্যতম প্রাচীন বিমানবন্দর যশোর বিমানবন্দর বর্তমানে তীব্র যাত্রীসংকটে রয়েছে। একসময় যেখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮টি ফ্লাইট ওঠানামা করত, বর্তমানে সেখানে সপ্তাহে মাত্র ৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ফ্লাইটেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছে এয়ারলাইনসগুলো।
এ পরিস্থিতিতে আগামী ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকেরা জানান, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আকাশপথের যাত্রীসংখ্যার ওপর। খুলনার মোংলা বন্দর, বেনাপোল স্থলবন্দর এবং সাতক্ষীরাসহ আশপাশের অঞ্চলের অনেক যাত্রী এখন সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ রুটের তুলনায় যশোর-ঢাকা রুটে তুলনামূলক বেশি বিমানভাড়াও যাত্রী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে এ রুটে বিমানের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ হাজার ৮০০ টাকা।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের যশোরের ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসেন বলেন, যাত্রীসংকটের কারণেই আগামী ১৬ জুলাই থেকে তিন মাসের জন্য এ রুটে সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হবে। তিন মাস পর যাত্রী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে যেখানে প্রতিদিন অন্তত ১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হতো, বর্তমানে সেখানে দিনে মাত্র একটি ফ্লাইট চলছে এবং সেটিও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে। এছাড়া বিমানের জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ও বিমানবন্দরের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।
ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বন্ধ হলে যশোর বিমানবন্দরে সপ্তাহে কেবল দুটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, যা বাংলাদেশ বিমানের মঙ্গলবার ও শুক্রবারের নির্ধারিত ফ্লাইট। এতে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ট্রাভেল এজেন্সি, ভাড়ায় চালিত যানবাহনের চালক এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব যশোরের সাধারণ সম্পাদক অরুণ মজুমদার অন্যান্য অভ্যন্তরীণ রুটের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমানভাড়া কমানোর দাবি জানান।
অন্যদিকে, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম বলেন, ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে যশোর বিমানবন্দরের গুরুত্ব অনেক। তাই এটি সচল রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করে ফুল, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
kalprakash.com/IM
মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি 





















