বাংলাদেশ ০২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে যা বললেন মেসি Logo জুলাই শহিদদের স্মরণে কুবি ছাত্রশক্তির মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান Logo বেরোবিতে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা Logo সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন Logo ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি Logo ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, বাড়ছে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরতা Logo সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ, ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার Logo প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ৭৭০ পরিবার পাচ্ছে ছাগল Logo সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের ফজিলত, হাদিসে যা এসেছে

বেরোবিতে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন ভবনের টয়লেট ও ওয়াশরুমের বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অপরিষ্কার পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, ভাঙা বেসিন, নষ্ট পানির ট্যাপ, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন-৩সহ বিভিন্ন ভবনের একাধিক টয়লেট ও ওয়াশরুম দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে। মেঝেতে কালো দাগ, পিচ্ছিল পরিবেশ এবং তীব্র দুর্গন্ধের পাশাপাশি অনেক বেসিন ভাঙা, কোথাও পানির ট্যাপ নেই, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে আছে। কিছু টয়লেটে পানি বহনের পাত্র (বদনা) নেই। এছাড়া ব্যবহৃত টিস্যু, জমে থাকা নোংরা পানি এবং মশা-পোকামাকড়ের উপদ্রবও লক্ষ্য করা গেছে। কয়েকটি টয়লেটের দরজায় ছিটকিনিও নেই।

শিক্ষার্থীরা জানান, টয়লেটগুলোর এমন বেহাল অবস্থার কারণে প্রয়োজন না হলে তারা সেগুলো ব্যবহার করতে চান না। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে তিনজন তিনটি আবাসিক হলে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সাতজন প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, ডরমিটরি, উপাচার্যের বাংলোসহ অন্যান্য স্থানের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে নিয়োজিত।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ হোসেন মিজি বলেন, “প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এমন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেগুলো ব্যবহারযোগ্য নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাবে ওয়াশরুমগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

আরেক শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবনের অধিকাংশ ওয়াশরুমই অপরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।”

পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “মেয়েদের অনেক টয়লেটই ব্যবহার করা যায় না। কোথাও ছিটকিনি নেই, কোথাও পানি আসে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধারও অভাব রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার লোকমান হাকিম বলেন, “আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। টয়লেটের পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রকৌশল দপ্তরের আওতাধীন। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “কিছু টয়লেট অপরিষ্কার থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে এবং কয়েকজনের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বেসিন ভাঙা এবং পানির ট্যাপ নষ্ট রয়েছে। জুন মাসের আর্থিক হিসাব সম্পন্ন হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর আগামী মাস থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।”

শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
বেরোবিতে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা
জনপ্রিয় সংবাদ

কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে যা বললেন মেসি

বেরোবিতে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ০১:৩৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন ভবনের টয়লেট ও ওয়াশরুমের বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অপরিষ্কার পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, ভাঙা বেসিন, নষ্ট পানির ট্যাপ, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন-৩সহ বিভিন্ন ভবনের একাধিক টয়লেট ও ওয়াশরুম দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে। মেঝেতে কালো দাগ, পিচ্ছিল পরিবেশ এবং তীব্র দুর্গন্ধের পাশাপাশি অনেক বেসিন ভাঙা, কোথাও পানির ট্যাপ নেই, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে আছে। কিছু টয়লেটে পানি বহনের পাত্র (বদনা) নেই। এছাড়া ব্যবহৃত টিস্যু, জমে থাকা নোংরা পানি এবং মশা-পোকামাকড়ের উপদ্রবও লক্ষ্য করা গেছে। কয়েকটি টয়লেটের দরজায় ছিটকিনিও নেই।

শিক্ষার্থীরা জানান, টয়লেটগুলোর এমন বেহাল অবস্থার কারণে প্রয়োজন না হলে তারা সেগুলো ব্যবহার করতে চান না। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে তিনজন তিনটি আবাসিক হলে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সাতজন প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, ডরমিটরি, উপাচার্যের বাংলোসহ অন্যান্য স্থানের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে নিয়োজিত।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ হোসেন মিজি বলেন, “প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এমন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেগুলো ব্যবহারযোগ্য নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাবে ওয়াশরুমগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

আরেক শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবনের অধিকাংশ ওয়াশরুমই অপরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।”

পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “মেয়েদের অনেক টয়লেটই ব্যবহার করা যায় না। কোথাও ছিটকিনি নেই, কোথাও পানি আসে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধারও অভাব রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার লোকমান হাকিম বলেন, “আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। টয়লেটের পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রকৌশল দপ্তরের আওতাধীন। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “কিছু টয়লেট অপরিষ্কার থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে এবং কয়েকজনের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বেসিন ভাঙা এবং পানির ট্যাপ নষ্ট রয়েছে। জুন মাসের আর্থিক হিসাব সম্পন্ন হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর আগামী মাস থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।”

শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
বেরোবিতে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা